ভারতের এক মহিলা চিকিৎসক করোনা সৃষ্ট মহামারীর মাঝে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, যেটা প্রমান করেছে মানবতাই পরমতম ধর্ম। ঐ নারী চিকিৎসকের নাম রেখাকৃষ্ণা যিনি মৃ’ত্যুপথযাত্রী একজন মুসলিম কোভিড রোগীকে কলমা পাঠ করে শোনালেন। তিনি দক্ষিণ ভারতের কেরালার তিরুবনন্তপুরম নামক এলাকার একটি হাসপাতালের একজন ডাক্তার। এই সময়ে, তার ছোট্ট কাজের এই বিষয়টি মন ছুঁয়ে গেছে আপামর মানুষের।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সম্প্রতি কেরালার পালাক্করের পতম্বিরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কোভিড আ’/ক্রা’ন্ত এক মুসলিম নারী। সেখানে তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন রেখাকৃষ্ণা। রেখাসহ অন্যান্য চিকিৎসকরাও বুঝতে পারছিলেন, ওই নারীকে সুস্থ করে তোলা কার্যত অসম্ভব। রোগীর বাড়ির সদস্যদের সে কথা জানিয়েও দেন তারা।

করোনা আ’/ক্রা’ন্ত হওয়ার কারণে রোগীর সঙ্গে তার পরিবারের কাউকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত ১৭ মে রেখা বুঝতে পারেন রোগীর অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না। থেমে আসছে হৃদস্পন্দন। তখন চিকিৎসক রেখা ওই রোগীর কানের কাছে গিয়ে কলমা পড়ে শোনান। তা শেষ হওয়ামাত্রই মহিলা গভীর শ্বাস নেন। অদ্ভুত এক প্রশান্তি ছিল তার মুখে। কিছুক্ষণ পরেই নারীর মৃ’/ত্যু হয়।

নিজের অভিজ্ঞতার পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরে রেখা বলেন, এমনটা যে করব তা আগে থেকে ভাবিনি। মুহূর্তটা এমনই হৃদয়বিদারক ছিল যে আ’চমকাই করে ফেলি। আমার বড় হয়ে ওঠা দুবাইতে। তাই ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অল্পবিস্তর জানি। সে কারণেই মৃ’/ত্যুপথযাত্রী করোনা রোগীর কানে কলমা পড়ে শুনিয়েছিলাম। এটা কোনও ধর্মীয় আচার নয়, মানবিক পদক্ষে’প।

বিষয়টি যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আসে, সেটা দেখার পর রেখার যে মানবিকতা সেটাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তিনি যেটা করেছেন সেটা মানুষের মাঝে বিভেদকে দূর করবে অন্তত কিছুটা হলেও। কারন মানবিকতা একটি ভিন্ন বিষয় যেটাতে বিভেদ থাকে না বা সৃষ্টি করে না। মানুষকে এক কাতারে এনে দাঁড় করায়- আমরা মানুষ।

News Page Below Ad