রাজধানী ঢাকায় এভার কেয়ার নামক একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং আশা করা যাচ্ছে তিনি খুব শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে তার রিলিজের বিষয়ে এখনও কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে, গেল শুক্রবার অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিন হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সাথে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার পরিবারের এক সদস্য জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতিমা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। তাঁরা সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এ সময় লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে ফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া।

ঈদের দিন গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ’আলহামদুলিল্লাহ, ম্যাডাম অতি ধীরে ধীরে হলেও ইমপ্রুভ করছেন। তবে চিকিৎসকরা কালও (বৃহস্পতিবার) আমাকে বলেছেন যে তাঁর অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল। তবে অনেক বিষয়েই তাঁর উন্নতি হয়েছে এবং চিকিৎসকরা খুব আশাবাদী যে তিনি অতি দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খানকে নিয়ে শেরেবাংলানগরে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে বিএনপি মহাসচিব একা এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে তিনি বেরিয়ে আসেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়া করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসকরা হাসপাতালে কাউকে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। ফলে সারা দিন আর কোনো নিকট স্বজন সেখানে যাননি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম প্রতিদিন পর্যালোচনা করছে মেডিক্যাল বোর্ড। গতকাল বিকেলেও বোর্ড বৈঠক করে বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ’সিসিইউতে ম্যাডামের পোস্ট-কভিড জটিলতার সার্বিক চিকিৎসা চলছে। এটি একটি লংটার্ম চিকিৎসা। চিকিৎসক হিসেবে ধারণা করে এখনই কিছু বলা যাবে না। হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড ম্যাডামের সর্বোত্তম চিকিৎসার কাজটি করে যাচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কোন পর্যায়—জানতে চাইলে মেডিক্যাল বোর্ডের এই সদস্য বলেন, ’পোস্ট-কভিড নানা রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসক নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এর বেশি নতুন কোনো তথ্য নেই।’

এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার ডা. আরিফ মাহমুদ একটি গনমাধ্যমকে বলেন, ’বেগম জিয়ার অবস্থার আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। তবে ঠিক কবে তাঁকে রিলিজ দেওয়া যাবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। বোর্ডই সিদ্ধান্ত দেবে যে কখন রিলিজ করা যাবে।’

খালেদা জিয়া দুটি দু’র্নী’তির মা’ম/লায় দো’ষী সা’/ব্য’স্ত হওয়ার পরে ২০১৮ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’/রা’গা’রে যান। তিনি পুরান ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কা’রা’গারে এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিনে দুইটি ঈদ কাটিয়েছিলেন। কা’রা কর্তৃপক্ষ এর নিকট হতে অনুমতি নেওয়ার পর ঈদের দিন তার স্বজনেরা খালেদা জিয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। গেল বছর তার গুলশানের বাসাবাড়িতে তিনি দুইটি ঈদ কাটিয়েছিলেন। ওই দুইটি ঈদ পরিবারের বাইরে কেবল বিএনপির স্থায়ী কমিটির যে সকল সদস্যরা রয়েছেন তাঁর সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।




News Page Below Ad