কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো ামরা অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রকৃত অর্থ জানিনা এবং সেটি শুধুমাত্র দেখে দেখে অভ্যস্ত এর পিছনে যে কোন ইতিহাস বা কোন প্রেক্ষাপটে থাকতে পারে সেটা কখনোই আমাদের কল্পনাতে আসেনা যদি আমাদের আশপাশে যেসব জিনিস গুলো ঘটছে সেগুলোর ব্যাপারে আমরা খুবই তদারকি করে থাকে কিন্তু চিরাচরিত যে বিষয়গুলো কখনোই জানিনা এই সম্বন্ধে ধারনা নেই অথচ সেই বিষয়গুলো আমরা প্রতিনিয়ত দেখে আসছে এগুলোর ব্যাপারে মানুষের কৌতূহল অনেকাংশে কম থাকে ঠিক যেমনটি অফিসের বসদের চেয়ারের পিছনে ঝুলানো তোয়ালে এই বিষয়টি অনেক আগে থেকে দেখে আসছি কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে নি যে আসলে এর রহস্য কি


কখনো কি খেয়াল করেছেন বড় সাহেব কিংবা অফিসের বসেদের চেয়ারের পেছনে ঝুলছে তোয়ালে। এটি খুব সাধারণ দৃশ্য হওয়ায় এর কারণ নিয়ে তেমন কেউ মাথা খামান না। খেয়াল করলেই দেখবেন অফিসের ছোট সাহেবদের চেয়ারে কিন্তু তোয়ালে থাকে না।
মনে হতে পারে হয়তো হাত মুখ কিংবা ঘাম মোছার জন্যই তারা চেয়ারের পেছনে তোয়ালে ঝুলিয়ে রাখেন। তবে এর পেছনে কিন্তু আরো অনেক রহস্য আছে। সাহেব যত বড়, তার চেয়ারের তোয়ালেও তত দামি। যেন ’তোয়ালে (গোঁফ) দিয়ে যায় চেনা’। যত উঁচু মানের তোয়ালে, তত বেশি ওজনদার কর্মকর্তা। ভারতে এখনো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা চেয়ারের পেছনে সাদা তোয়ালে রাখেন। গোসলের অতিপ্রয়োজনীয় বস্ত্রটির এই পদোন্নতি লাভের পেছনে রয়েছে এক মজার ইতিহাস।


এই তোয়ালে-সংস্কৃতির সূত্রপাত ব্রিটিশ আমলে। সে সময় কলকাতার উচ্চপদস্থ বাবুরা মাথায় চুবচুবা তেল মেখে অফিসে এসে চেয়ারে বসে পেছনে মাথা এলিয়ে দিতেন। ব্রিটিশরা দেখল, আয়েসি বাবুদের নিয়ে তো মহা বিপদ! চেয়ারে তেল লেগে কাপড় নষ্ট হয়ে যেত! কী করা যায় ভাবতে ভাবতেই বাঙালি বের করে ফেলে এক বুদ্ধি। লাগাও তোয়ালে। দামি চেয়ার নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। তোয়ালের রঙ চটে গেলে ধুয়ে নেয়া যাবে। আরেকটি ব্যাপার ছিল। গরমে বাবুদের যে ঘাম ঝরত, তা মুছে ফেলার জন্যও তোয়ালের দরকার ছিল।


বিলেতি সাহেবরা এখানকার রক্ত চোষা মশা, মশলাদার খাবার, ভাষা, সংস্কৃতি, আচার প্রায় সব কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পেরেছিল। তবে ভারতে এসে কোনো দিন তারা যে ব্যাপারে অভ্যস্ত হতে পারেনি তা হলো এখানকার জলবায়ু। শীতের দেশের এই মানুষগুলো গরমটাতে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি নিজেদের। গরমে বাবুদের যে ঘাম ঝরত তা মোছার কাজও হত এই তোয়ালে দিয়ে। তবে মাথায় তেল দেয়া তাদের রীতিবিরুদ্ধ। তবে ব্রিটিশ সাহেবদের ঘরে টানাপাখার ব্যবস্থা ছিল। এজন্য তাদের শরীর ঘামে ভিজত না। মূলত তেলের জন্যই ব্যবহার হত এই তোয়ালে।


এরপর ব্রিটিশ গেল, পাকিস্তান এল। পূর্ব বাংলার সাহেবরা সযত্নে তোয়ালে রক্ষা করে চললেন। সাবেক আরেকজন সচিবের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তোয়ালে অপরিহার্য হয়ে উঠল। কারণ, সদ্য স্বাধীন দেশে অফিস কক্ষের টানাটানি। স্বল্প পরিসরে অনেক সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিবদের বসে কাজ করতে হয়েছে। কোনো অতিথি এলে তার পক্ষে বোঝা সম্ভব হতো না কে কোন পদমর্যাদার। তাই মর্যাদা অনুযায়ী চেয়ারে তোয়ালে ঝোলানো একটি উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেল।


পাকিস্তান তোয়ালে-সংস্কৃতি গ্রহণ করেনি। ভারতেও এখন সম্ভবত শুধু দক্ষিণাঞ্চলে এর চল আছে। বাংলাদেশে কমে আসছে। কোনো কোনো মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাদের চেয়ারে তোয়ালে ব্যবহার করেন না। শুধু তোয়ালে নয়, আমাদের দেশে বড় সাহেবরা বসেন সিংহাসনসম বড় চেয়ারে, আর টেবিলের সামনে অভ্যাগতদের জন্য থাকে ছোট চেয়ারের ব্যবস্থা। বিলেতে, আমেরিকায় কিন্তু সবার চেয়ার সমান। একদিন আমাদের দেশ থেকে ধীরে ধীরে তোয়ালেও চেয়ার থেকে বিদায় নেবে।


বিভিন্ন সময় দেখা যায় অফিসের বসের চেয়ারের পিছনে থাকে তোয়ালে অনেকেই চিন্তা করেন এই তোয়ালে রাখা হয় মনে হয় চেয়ারের উপর যাতে কোন ময়লা না পড়ে অথবা ঘাম মোছার জন্য কিন্তু আসলে ঘটনাটি তার নয় এর পিছনে রয়েছে মজার ইতিহাস সাহেব যত বড় তার চেয়েও দামি যত উঁচুমানের তোয়ালে ততবেশি ওজনদার কর্মকর্তা এ কারণেই ভারতে এখনো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সাদা তোয়ালে রাখেন তাদের চেয়ারের পিছনে

News Page Below Ad