প্রতারক শাহেদ করিম বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত এক ব্যক্তি বর্তমান সময়ে তাকে বলা হচ্ছে প্রতারণা গুরু কোথায় নেই তার বিচরণ সবখানেই এই প্রতারক নিজেকে বিস্তৃত করে রেখেছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের মানুষজন থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত সকলের সাথে তার প্রতারণার অভিযোগ মিলেছে বর্তমানে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেব রয়েছে এবং সেখানে নানান রকম তথ্য দিচ্ছেন তাদেরকে এছাড়াও তার বিভিন্ন অপরাধ অনুসন্ধান করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেইসাথে তারা তাকে মদদ দিত সেটাও খুঁজে বের করা হচ্ছে

ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম পরিবর্তন করা রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টদের কেউই।

এ বিষয়ে ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নাম সংশোধনে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেই তারা এটি করেছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, একজন নাগরিকের নামের অতিরিক্ত অংশ সংশোধনে যে ধরনের দলিল-দস্তাবেজ প্রয়োজন, তার সবই চাহিদানুযায়ী জমা দেয়া হয়েছে এবং এর আলোকে সংশোধন করা হয়। কমিশনের এনআইডি উইংয়ে জমা দেয়া তথ্য যাচাই করে গরমিলের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। তবে উচ্চতর ডিগ্রির সনদটিতে তথ্য গোপন করেছিলেন কি না সেটিও খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম সংশোধন করে ’সাহেদ করিম’ থেকে হয়েছেন ’মোহাম্মদ সাহেদ’। তার এনআইডি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেছিলেন, ’সাহেদের নাম পরিবর্তন জালিয়াতির সঙ্গে ইসির কারা জড়িত, খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রমাণসাপেক্ষে সাহেদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জানা যায়, মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সাহেদ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এই পরিচয়পত্রের নাম পরিবর্তন করেছেন। সাহেদের আসল নাম সাহেদ করিম, বাবার নাম সিরাজুল করিম, মা- মৃত সুফিয়া করিম। কিন্তু এখন তিনি যে এনআইডি ব্যবহার করছেন, সেখানে তার নাম মোহাম্মদ সাহেদ। ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট সাহেদের নামে যে জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়েছিল, তার নম্বর ছিল ২৬৯২৬১৮১৪৫৮৮৫। আর এখন তার নামে থাকা স্মার্ট এনআইডির নম্বর ৮৬৫০৪০৬১৮৭।

সাহেদ ২০১৯ সালে তার এনআইডি সংশোধন করার সময় জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, পাসপোর্টের কপি এবং ’ও’ লেভেলের সার্টিফিকেট জমা দেন। এনআইডির তথ্য সংশোধনে তার নাম সাহেদ করিম থেকে মোহাম্মদ সাহেদ হয়। অথচ এখন জানা যায় তিনি এসএসসি পাস।

কিন্তু নতুন এনআইডি প্রদানকারীদের ব্যাখ্যা হলো, মোহাম্মদ সাহেদ করিম থেকে মোহাম্মদ সাহেদ নামে পরিচয় সংশোধনের জন্য যে ধরনের তথ্য দরকার তা বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি সবই জমা দিয়েছিলেন। এছাড়া মূল নাম পরিবর্তন না করায় ইসির এক্ষেত্রে সংশোধন নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।

জানা যায়, বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, এতে এনআইডির একজন পরিচালককে আহ্বায়ক করে সংশোধন সংক্রান্ত টেকনিক্যালসহ সব শাখার কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কমিশন।

কমিটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ’পরিচয়পত্র সংশোধনে জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্টের ফটোকপি ও শিক্ষা জীবনের সনদও জমা দেন সাহেদ। তবে উচ্চতর ডিগ্রির সনদ যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এর সত্যতা বিবেচনায় (অন্যান্য প্রমাণাদি) তার পরিচয়পত্র সংশোধন করা হয়। কারণ তিনি মূল নাম সংশোধন করেননি, নামের অতিরিক্ত অংশটি ছেঁটে ফেলতে আবেদন করেছিলেন। এ ধরনের সংশোধন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সংশোধন করা হয় এবং হচ্ছে। ইসি একটা সেবামূলক সংস্থা তাই মানবিক দিকগুলোও বিবেচনায় নিতে হয়।’

অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ’আমরা তদন্ত কমিটিকে একটি বিষয় যাচাইয়ের জন্য বলেছি, তিনি (সাহেদ) সংশোধনের প্রমাণস্বরূপ যেসব সনদ দিয়েছিলেন তা সঠিক ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে। এটি যদি সংশ্লিষ্ট ইউনিভার্সিটিতে খতিয়ে সত্যতা না পাওয়া যায় তাহলে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করার জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সুপারিশ জানাব।’

দেশে করোনাভাইরাস ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত এবং মানুষের থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে সেই টাকা ফেরত না দেওয়া সহ বিভিন্ন জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার করা হয় প্রতারক শাহেদ করিমকে এরপর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর নানান তথ্য দিয়েছে সে পুলিশকে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে পরবর্তীতে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তবে শুধু শাহরুখ নয় তার পিছনে যারা কাজ করেছেন তাদেরকেও খুঁজে বের করার প্রয়াস চলছে

News Page Below Ad