আবারো উত্তাল বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিককে করা হয়েছে হেনস্থা। আর এই ঘটনায় এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ। এ দিকে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব নথি সরানোর অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোতে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তারা বলছে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভ্যাকসিন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেসব তথ্য ছিল এসব নথিতে। এগুলো প্রকাশ হলে দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হতে পারত।

মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী শাহবাগ থানায় যে লিখিত অভিযোগ করেছেন, তাতে এই বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

এতে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। এর খসড়া সমঝোতা স্মারক ও নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট প্রণয়ন কাজ চলমান রয়েছে। সমঝোতা স্মারক নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত পত্র ও ই মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে। যেখানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত রয়েছে।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যেসব নথিপত্রের ছবি তুলেছিল, তার মধ্যে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়, ’এ সকল তথ্য জনসম্মুখে প্রচার চলে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বাংলাদেশ করোনার টিকা নিয়ে প্রথমে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই চুক্তি অনুযায়ী টিকা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। পরে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।

এরই মধ্যে দুই দেশের সঙ্গে একটি করে চুক্তি হয়েছে। দুটি দেশের দুটি টিকা বাংলাদেশেই উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। তবে এর কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।

অভিযোগে বলা হয়, বিকেল দুইটা ৫৫ মিনিটে রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে সচিবের একান্ত সচিবের দপ্তরে ঢুকেন। তখন একান্ত সচিব দাপ্তরিক কাজে সচিবের কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

সে সময় রোজিনা ইসলাম দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকানোর পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি তোলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।

সে সময় সচিবের দপ্তরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান খান বিষয়টি দেখতে পেয়ে রোজিনাকে বাধা দেন। আর নির্ধারিত কর্মকর্তার অনুপস্থিতে তিনি ওই কক্ষে কী করছেন, তা জানতে চান। এ সময় রোজিনা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন।

পরে অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম, উপসচিব জাকিয়া পারভীন, সিনিয়র সহকারী সচিব শরিমীন সুলতানা, সচিবের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, সিনিয়র সহকারী সচিব মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম, অফিস সহায়ক মাহফুজুল ইসলাম, সোহরাব হোসেনসহ অনান্য কর্মকর্তা ও স্টাফরা ঘটনাস্থলে আসেন।

অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম তল্লাশি করে রোজিনার কাছ থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজগপত্র এবং নথির ছবি সম্বলিত মোবাইল উদ্ধার করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ’এতে প্রতীয়মান হয় যে ডকুমেন্টসগুলো তিনি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।’

এ সময় সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে শাহবাগ থানার নারী পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে জিম্মায় নেন।

এসব কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত আছে এবং পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রদর্শন করা হবে বলেও অভিযোগে বলা হয়।


এ দিকে একজন সিনিয়র সাংবাদিকের এমন ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ। বিশেষ করে দেশের অন্যসব সাংবাদিকরাও বেশ ক্ষেপে গিয়েছেন এই ঘটনায়। দেশের অনেক বিশিষ্টরাও এই ঘটনায় নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

News Page Below Ad