রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে পাওয়া গেছে কলেজ পড়ুয়া একটি তরুণীর মৃতদেহ। আর সেই থেকেই এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। সবখানেই এখন এ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। বিশেষ করে কলেজ শিক্ষার্থী মুসারাত জাহান মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তার নিয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ’মুনিয়ার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে যদি বেরিয়ে আসে তাহলে গ্রেপ্তার (আনভীর) হবে, নিয়মের বাইরে কিছু করা যাবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ’যিনি সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, তিনি বিচার দিতেই পারেন। বিচারটি আমলে নেওয়া হয়েছে, তদন্তে যদি সব ঠিক থাকে, তা হলে গ্রেপ্তার হবে।’

আনভীরের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিমান ভাড়া করে দুবাই যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ’কেউ যাবে কেউ আসবে, এটাতে কোনো আপত্তি নেই।’

এর আগে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাটে নুসরাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি ডায়েরি। উদ্ধার হওয়া সেই ডায়েরিগুলোতে সরাসরি সুইসাইড নোট না থাকলেও আসামি বসুন্ধরার এমডি আনভীরের সঙ্গে মুনিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সম্পর্কের স্বীকৃতি আদায় নিয়ে নানা বর্ণনা আছে বলে জানান তিনি।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ডায়েরিতে বিভিন্ন দিনের যে চিত্র আছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে তার ভেতরে মানসিক দ্বন্দ্বের যে উদ্ভব সেটা আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। সরাসরি সুইসাইডাল নোট না লিখলেও তার প্রচণ্ড মানসিক কষ্টগুলো ছিল সেগুলো এখানে ফুটে উঠেছে।

তিনি জানান, মুনিয়ার দেহে হত্যার মতো কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা তদন্ত করা হচ্ছে।

মুনিয়ার পরিবারের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড। সুরতহালের সময় উপস্থিত থাকা তার বোনের দাবি, আত্মহত্যার কোনো আলামত তিনি দেখেননি।

মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বলেন, একটা মানুষ যদি ফাঁস দেয় তাহলে হাত-পা ছুড়াছুড়ি করলে টুলটা পড়ে যাওয়ার কথা কিন্তু টুলটা পড়েনি। টুলের দু’পাশে তার পা ঝুলে রয়েছে আর পা বাঁকানো ছিল এবং বিছানাও পরিপাটি ছিল। উনি এখনো দেশে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না, এটা সবাই জানতে চায়।

এদিকে মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। এ ছাড়া আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে।

উল্লেখ্য, গেল ২৬ শে এপ্রিল এই ঘটনা প্রকাশ পায় সবখানে। আর এরপর থেকেই সৃষ্টি হয় নানা ধরনে আলোচনা সমালোচনার। সকলেই এই ঘটনা নিয়ে বেশ মাতামাতি শুরু করে। আর এরপরেই এ ঘটনায় গুলশান থানায় আনভীরকে আসামি করে মামলা করেন তার বড় বোন নুসরাত জাহান। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।

News Page Below Ad