বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা আখি আলমগীর। তিনি একাধারে যেমন একজন সংগীতশিল্পী অন্যদিকে উপস্থাপিকার এবং অভিনেত্রী তিনি ১৯৮৪ সালে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন এবং ওই সিনেমাটি নাম হচ্ছে ভাত দে। মূলত এই ছবিটি ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল পুরো দেশে এবং সিনেমাতেশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন আঁখি আলমগীর এবং তার অভিনয় এতটাই মনমুগ্ধকর ছিল যে তার জন্য তিনি শিশু বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিলেন

দিনটি ছিলো কোনও এক শনিবারের সকাল।
শীতের সকাল। আম্মা বাড়ির উঠানে বসে কলই শাক কাটতেছেন। আমি আম্মারে যাইয়া কইলাম, আম্মা আামরে এক পাতিল ভাত দিবা? আম্মা আমার দিকে ডিপজলের মতো চোখ করে তাকাইয়া কয়- 
-এক পাতিল ভাত? এত্তভাত দিয়া কি করবি তুই? 
-জরি রে দিমু। জরির খুব কষ্ট, ভাত খাইতে পারে না। ভাতের জন্য কত্ত কান্না করে? 
আম্মা আমারে , কয়, নাক টিপলে দুধ বাইর হইবো আর এই বয়সেই মাইয়া মাইষ্যের লেইগ্যা এত্ত মায়া? খাড়া, তোর আব্বুরে কইতাছি। আমি দৌঁড় দেই, ইটের সাথে উষ্টা খাইয়া পায়ের নখ উঠে যায়। কিন্তু আমার কোনও কষ্ট লাগে না। এই কষ্টের বিনিময়ে যদি জরিরে এক পাতিল ভাত দিতে পারি!
আমার জন্মের ঠিক পরের বছরই একটি সিনেমা মুক্তি পায়। সিনেমার সব চরিত্রকে ছাপিয়ে যায় জরির চরিত্র। আমার বয়স যখন ১২/১৩ বছর তখন আমি সিনেমাটি দেখি টিভি পর্দায়। শুক্রবার বিকালে সিনেমা দেখে আমি সারারাত ঘুমাতে পারি না। জরির জন্য বুকের ভিতর অদ্ভুদ একটা টান অনুভব করি। মায়া লাগে। জরির কষ্ট, আমাকেও কষ্ট দেয়। আমার জরির খুব কাছে যেতে ইচ্ছে করে। জরির  জন্য এক পাতিল ভাত নিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। ভাতের সাথে হরেক রকম ভর্তা আর টাকি মাছ দিয়ে লাউ রান্না করে নিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। 
আম্মা আমার কষ্ট সহ্য করতে পারে না। আব্বারে ডাইক্যা কয়, ছেলে তো উদাস হয়ে যাচ্ছে। জরির জন্য দিন-রাইত কান্দে। 
আব্বা সব শুনে শুনে বলে-
জরিরে তুই কই পাইবি বাবা? আর এটা তো  সিনেমায় অভিনয় করছে। বাস্তবে জরির এত্ত ভতের কষ্ট নাই! আমি অবাক হই, এতটুকুন একটা মেয়ে এত্ত সুন্দর অভিনয় ক্যামনে করলো?  
এরপর আমি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকি। লম্বার সাথে চওড়া হতে থাকি। আমার শরীরের পরিধির সাথে জ্ঞানের পরিধিও কিঞ্চত বাড়তে থাকে। জানতে পারি জরি গানও গায়। 
পেশাগত কারণেই  জরির কাছাকাছি যাই। আস্তে আস্তে  জরিকে চিনতে চেষ্টা করি। আরও জানতে পারি মানুষ হিসেবেও জরি অসাধারণ। তার বুকে মানুষের জন্য অসাধারণ মায়া। ঠিক আমার যেমন জরির প্রতি মায়া লেগেছিলো তার থেকেও বেশি। শিল্পী সমাজের প্রতি তার নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ। যা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।   
আপনারা এতক্ষণ পড়লেন ’ভাত দে’ সিনেমার  জরির কথা, জরিকে নিয়ে ওমর ফারুকের পাগলামীর কথা। আজ জরি’র জন্মদিন। শুভ জন্মদিন জরি আপা। শুভ জন্মদিন আঁখি আপা। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। 
জরি আপা তুমি কি জানো, তোমাকে  আমি মনে মনে সঙ্গীতাঙ্গনের ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেল ডাকি। এত্ত প্রাণশক্তি কই পাও তুমি? এত্ত ভালোবাসাই বা কোথা থেকে আসে ? 
তোমার জন্য  দুই লাইন আপা- 
’সুখটুকু কাছে থাক, দুঃখটা দূর,
শুভ হোক জীবনের প্রতিটা ভোর। 


দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে অন্যতম জনপ্রিয় একজন কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর বহু গানটি দর্শকদের জন্য রচনা করেছেন এবং বহু অ্যালবাম তিনি বের করেছেন এবং তার গানের বড় একটি ভক্ত রয়েছে তিনি নিজে একজন গীতিকার হলেও তারা আরও একটি বড় পরিচয় রয়েছে আর সেটি হল তার বাবা হচ্ছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একজন অভিনেতা এবং তিনি হলেন আলমগীর। তবে বাবার পরিচয় পরিচিত হওয়ার থেকে তিনি নিজের পরিচয় বেশি পরিচিত একদিকে যেমন তিনি গায়িকা অন্যদিকে অভিনেত্রী এবং উপস্থাপিকা তিনি

News Page Below Ad