বর্তমানে বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে চলছে উন্নয়নের দক্ষযজ্ঞ এবং সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে সেই সাথে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বেশ জোরের সাথে চলছে তবে এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে যেমন শহরের যানজটের পরিমাণ খুব বেশি দেখা যাচ্ছে বর্তমান সময়ে এই যানজট নিরসনে সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে তারই প্রেক্ষিতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বিজয়ের মাসে সরকার প্রধানের কাছে একই খরচে দুটি পথ পাওয়া গেলে দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে



ক্যাপ্টেন মনসুর ভাই যোগাযোগমন্ত্রী হলে সেতুর কাজ তরতরিয়ে এগিয়ে চলে সেতুর সব কার্যক্রম বস্তাবন্দী পড়ে থাকে। একসময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যমুনা সেতুর জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং তার উৎসাহ-উদ্দীপনায় সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়। এটা এশিয়ার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য স্থাপনা। এটাকে মাঝেমধ্যে বাঁশের সাঁকো ভাবতে কষ্ট হয়। সেতুতে প্রথম অবস্থায় রেললাইনের কথা ছিল না। পরে যুক্ত করা হয়। কিন্তু খুব একটা সুবিধাজনক হয়নি। সেতুর উত্তর পাশ দিয়ে রেললাইনে কচ্ছপের গতিতে ট্রেন চলে। ৫ কিলোমিটার পার হতে ৩০ মিনিট লাগে। মানে ঘণ্টায় ১০ মাইল। মুক্তিযুদ্ধের সময় কখনোসখনো আমরাও ঘণ্টায় ৫-৬ মাইল পাড়ি দিতাম। বুলেট ট্রেনের জমানায় এও এক আশ্চার্য ঘটনা। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন সাহেবের সঙ্গে সেতুর কাজ চলাকালে একবার গিয়েছিলাম। হেলিকপ্টারে গিয়ে স্পিডবোটে ঘুরে যমুনা সেতু দেখেছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল সেতু নির্মাণে যে কলাকৌশল তাতে রোড স্ল্যাবের ভিতর দিয়ে অনায়াসে আরেকটা সেতু করা যেত। শুধু প্রয়োজন হতো একটু আলো-বাতাস যাওয়ার ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধু সেতুর পেটে প্রায় ৪০ ফুট পাশে এপার-ওপার একটি রাস্তা রয়েছে যা একেবারে অকেজো পড়ে আছে। অন্যদিকে রেললাইন উত্তর পাশ দিয়ে না নিয়ে মাঝামাঝি নিলে ট্রেনের গতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো অসুবিধা হতো না। উত্তর পাশে মাচার ওপর দিয়ে যেভাবে ট্রেন চলে সেখান দিয়ে বাস-ট্রাক অনায়াসে চলতে পারত। মাঝ দিয়ে রেললাইনের দুই পাশে আড়াই-তিন ফুট দেয়াল তুলে দিলে কোনো অসুবিধা হতো না। কে শোনে কার কথা। আমরা তো আর ইঞ্জিনিয়ার নই। পৃথিবীর নানা দেশের প্রকৌশল জ্ঞান অর্জনের সার্টিফিকেট নেই। তাই আমাদের কথায় কী হবে। বাঁশের সাঁকো বলেছি এ জন্য, বঙ্গবন্ধু সেতুর এপাশ-ওপাশের কান্ডকারখানা দেখলে ভিরমি খেতে হয়। সারা দেশে শোলার পুলের ওপর দিয়ে যেসব গাড়ি আসে তা যমুনা সেতু পার হতে পারে না। বাংলাদেশের সব থেকে শক্তিশালী স্থাপনা সবচাইতে উল্লেখযোগ্য সেতু ৯-১০ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও যে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না, সে সেতুর ওপর দিয়ে নির্ধারিত ওজনের ১ টন বেশি হলেও নিতে পারে না। রাজশাহী-পাবনা-দিনাজপুর-রংপুর-বগুড়া, এদিকে চট্টগ্রাম যেখান থেকেই মালবোঝাই ট্রাক আসুক বঙ্গবন্ধু সেতুর পাড়ে এসে স্কেলে উঠিয়ে মাপতে হয়। সেখানে ৫০০ কেজি বেশি হলেও নামিয়ে রেখে অন্য গাড়িতে পার করতে হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই পাড়ে এজন্য বিড়ম্বনার শেষ নেই। কেউ কাঠ, ইট, বালু, রড, সিমেন্ট, পাথর যা কিছুই হোক বেশি হলে অন্য গাড়িতে পারাপার করতে হয়। অথচ যমুনা সেতুর এপার-ওপার শত শত ব্রিজ-কালভার্টের ওপর দিয়ে সে ভারী যানবাহন অনায়াসে ছোটাছুটি করে কোনো ক্ষতি হয় না। সব ক্ষতি যমুনার ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর। এই খোঁড়া যুক্তি মানা যায়? আবার যখন ট্রেন যায় পাঁচটি ট্রাকের সমান লোড ট্রেনের প্রতিটি বগির, তার ২০-২৫টি বগি একসঙ্গে যায়। তখন সেতু ভেঙে পড়ে না। রেলে তেলের ট্যাংকার, প্রতিটি ৫০ টন তেল বহন করে। ট্যাংকারের ওজনও ১৫-২০ টন। এর অন্তত ২০-২৫-৩০টি ট্যাংকার একসঙ্গে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়, ভেঙে পড়ে না। ভেঙে পড়ে যদি ট্রাকে ১০ টনের জায়গায় ১১ টন থাকে তাহলে। দিনরাত জিনিসপত্র নামাতে-ওঠাতে গিয়ে পেরেশানির শেষ নেই। মালপত্র হারিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা রাতদিন চিৎকার করে, কোনো প্রতিকার নেই।
এবার আসি রেলসেতু বিষয়ে। যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ৫০০- ৬০০ গজ উজানে ৩০ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেলসেতুর কাজ উদ্বোধন করেছেন। শুনলাম ১০০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারবে- এটা খুবই আনন্দের কথা। বর্তমানে বুলেট ট্রেনের আমলে শত মাইল গতি কোনো গতিই না। এখন বুলেট ট্রেন ৬০০-৭০০ কিলোমিটার গতিতে চলে। আকাশে বিমানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। অনেক বিমান ৪০০-৪৫০ কিলোমিটার বেগে চলে। সাধারণত বড় বড় প্লেনগুলো ৮০০ কিলোমিটারের বেশি গতি নেয় না, সেখানে ট্রেনের গতি ৬০০-৭০০ কিলোমিটার অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়। তাই যে সেতুর ওপর দিয়ে এ রকম দ্রুতগতির ট্রেন চলবে তার কম্পন সইবার ক্ষমতা থাকবে অনেক বেশি। আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু শেষ হওয়ার পথে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগে মুখ ফিরিয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা নেত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেন। এখন বিশ্বব্যাংক আমাদের টাকা দিতে দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে। তাই যমুনা রেলসেতু একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই বলি কারণ তাঁকে ছাড়া অন্য কারও কিছু করার নেই। বঙ্গবন্ধু সেতুর পেটের ভিতর দিয়ে যেমন আরেকটি পথ করা যেত সেটা সড়কপথই হোক আর রেলপথ। শুধু কিছু ভেনটিলেশনের ব্যবস্থা করলেই হতো। ঠিক তেমনি যমুনা রেলসেতুতে নিচ দিয়ে ট্রেন চলবে। ওপর ফাঁকা পরিত্যক্ত, কোনো কাজে লাগবে না। একই রকম স্ট্রাকচার পদ্মায়- ওপর দিয়ে গাড়ি-ঘোড়া, নিচ দিয়ে রেল। এখানে শুধু রেল কেন? ওপর দিয়েও তো আরেকটি সড়কপথ প্রায় একই খরচে করা যেতে পারে। ওপরে সড়কপথ করতে যদি স্টিল স্ট্রাকচারগুলোয় সামান্য রদবদল আনতে হয় আনা হবে। আমার তো মনে হয় যে টাকায় রেলসেতু হবে তার থেকে ২০ শতাংশও অতিরিক্ত খরচ করতে হবে না। স্টিল স্ট্রাকচারে ’ভি’র মতো ওপর নিচে যে জয়েন্ট দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মাঝে আরেকটা ’আই’ বসিয়ে দিলে ওপরে নিচে ওয়েট বেয়ারিং ক্ষমতা বেড়ে যাবে শতগুণ। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তরিক অনুরোধ একটু ভেবে দেখবেন, এক খরচেই যদি দুটি পথ পাওয়া যায় তাহলে কেন দেশের অর্থ নষ্ট করা হবে।

তাই সনির্বন্ধ অনুরোধ, যে দেশ স্বাধীন করেছি সেই স্বাধীন দেশে বিজয়ের মাসে সরকারপ্রধান প্রিয় ভগ্নির কাছে বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখার আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি। একই খরচে যদি আরেকটি সেতু পাওয়া যায় তাহলে আপত্তি কোথায়? পদ্মা-যমুনার ওপর দেশের উন্নয়নে আমাদের আরও সেতুর প্রয়োজন হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! গত দুটি খুশির ঈদের সময় বঙ্গবন্ধু সেতুতে যে যানজট দেখেছি তা বলার মতো নয়। একবার আমি যানজটের সময় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা গিয়েছিলাম। ফেরার পথে মির্জাপুর থেকে উল্টো পথে এসেছিলাম। উল্টো পথে এসেছিলাম বলে বাড়ি ফিরে ইফতার করতে পেরেছিলাম। সকাল ৮টায় যাওয়ার পথে যাদের নাটিয়াপাড়া-জামুর্কীর কাছে দেখে গিয়েছিলাম, সেই তাদের বিকাল সাড়ে ৪টা-৫টায় করটিয়ার কাছে পেয়েছিলাম। ৮টা থেকে সাড়ে ৪টা-৫টা, সাড়ে ৮-৯ ঘণ্টায় তারা ৩-৪ কিলোমিটার এগোতে পেরেছিল। তাই বঙ্গবন্ধু সেতুর মতো আরেকটি সেতু হলে কারও কোনো ক্ষতি হবে না।

বরং দেশের জন্য লাভই হবে। সর্বোপরি কোনো কাজেই যদি না লাগে কোনো জরুরি অবস্থায় শুধু সামরিক বাহিনীর পারাপারের জন্যও যমুনা রেলসেতুর ওপর দিয়ে একই খরচে আরেকটি সড়ক যোগাযোগ হলে হয়তো তখন কাজে লাগবে। তাই প্রস্তাবটি ভেবে দেখবেন।

যমুনা রেলসেতু নির্মাণের সময় বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা একটি প্রশংসার কাজ হয়ে থাকবে।

সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাস্তাঘাট এবং সেতু ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং এরই মধ্যে অনেক কর্মকাণ্ড তারা সমাপ্ত করে ফেলেছেন এবং তালিকায় রয়েছে আরও বেশ কিছু প্রকল্প যেগুলো এখনও নির্মাণাধীন রয়েছে এসব প্রকল্প নির্মাণ করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে দেশের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে দেশে এমন অনেক প্রকল্প রয়েছে যেগুলো শুধু সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে তৈরি হওয়ার জন্য

News Page Below Ad

প্রিয় ভগ্নির কাছে বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখার আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
Logo
Print

মুক্তমত Hits: 846

 

বর্তমানে বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে চলছে উন্নয়নের দক্ষযজ্ঞ এবং সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে সেই সাথে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বেশ জোরের সাথে চলছে তবে এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে যেমন শহরের যানজটের পরিমাণ খুব বেশি দেখা যাচ্ছে বর্তমান সময়ে এই যানজট নিরসনে সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে তারই প্রেক্ষিতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বিজয়ের মাসে সরকার প্রধানের কাছে একই খরচে দুটি পথ পাওয়া গেলে দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে



ক্যাপ্টেন মনসুর ভাই যোগাযোগমন্ত্রী হলে সেতুর কাজ তরতরিয়ে এগিয়ে চলে সেতুর সব কার্যক্রম বস্তাবন্দী পড়ে থাকে। একসময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যমুনা সেতুর জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং তার উৎসাহ-উদ্দীপনায় সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়। এটা এশিয়ার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য স্থাপনা। এটাকে মাঝেমধ্যে বাঁশের সাঁকো ভাবতে কষ্ট হয়। সেতুতে প্রথম অবস্থায় রেললাইনের কথা ছিল না। পরে যুক্ত করা হয়। কিন্তু খুব একটা সুবিধাজনক হয়নি। সেতুর উত্তর পাশ দিয়ে রেললাইনে কচ্ছপের গতিতে ট্রেন চলে। ৫ কিলোমিটার পার হতে ৩০ মিনিট লাগে। মানে ঘণ্টায় ১০ মাইল। মুক্তিযুদ্ধের সময় কখনোসখনো আমরাও ঘণ্টায় ৫-৬ মাইল পাড়ি দিতাম। বুলেট ট্রেনের জমানায় এও এক আশ্চার্য ঘটনা। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন সাহেবের সঙ্গে সেতুর কাজ চলাকালে একবার গিয়েছিলাম। হেলিকপ্টারে গিয়ে স্পিডবোটে ঘুরে যমুনা সেতু দেখেছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল সেতু নির্মাণে যে কলাকৌশল তাতে রোড স্ল্যাবের ভিতর দিয়ে অনায়াসে আরেকটা সেতু করা যেত। শুধু প্রয়োজন হতো একটু আলো-বাতাস যাওয়ার ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধু সেতুর পেটে প্রায় ৪০ ফুট পাশে এপার-ওপার একটি রাস্তা রয়েছে যা একেবারে অকেজো পড়ে আছে। অন্যদিকে রেললাইন উত্তর পাশ দিয়ে না নিয়ে মাঝামাঝি নিলে ট্রেনের গতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো অসুবিধা হতো না। উত্তর পাশে মাচার ওপর দিয়ে যেভাবে ট্রেন চলে সেখান দিয়ে বাস-ট্রাক অনায়াসে চলতে পারত। মাঝ দিয়ে রেললাইনের দুই পাশে আড়াই-তিন ফুট দেয়াল তুলে দিলে কোনো অসুবিধা হতো না। কে শোনে কার কথা। আমরা তো আর ইঞ্জিনিয়ার নই। পৃথিবীর নানা দেশের প্রকৌশল জ্ঞান অর্জনের সার্টিফিকেট নেই। তাই আমাদের কথায় কী হবে। বাঁশের সাঁকো বলেছি এ জন্য, বঙ্গবন্ধু সেতুর এপাশ-ওপাশের কান্ডকারখানা দেখলে ভিরমি খেতে হয়। সারা দেশে শোলার পুলের ওপর দিয়ে যেসব গাড়ি আসে তা যমুনা সেতু পার হতে পারে না। বাংলাদেশের সব থেকে শক্তিশালী স্থাপনা সবচাইতে উল্লেখযোগ্য সেতু ৯-১০ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও যে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না, সে সেতুর ওপর দিয়ে নির্ধারিত ওজনের ১ টন বেশি হলেও নিতে পারে না। রাজশাহী-পাবনা-দিনাজপুর-রংপুর-বগুড়া, এদিকে চট্টগ্রাম যেখান থেকেই মালবোঝাই ট্রাক আসুক বঙ্গবন্ধু সেতুর পাড়ে এসে স্কেলে উঠিয়ে মাপতে হয়। সেখানে ৫০০ কেজি বেশি হলেও নামিয়ে রেখে অন্য গাড়িতে পার করতে হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই পাড়ে এজন্য বিড়ম্বনার শেষ নেই। কেউ কাঠ, ইট, বালু, রড, সিমেন্ট, পাথর যা কিছুই হোক বেশি হলে অন্য গাড়িতে পারাপার করতে হয়। অথচ যমুনা সেতুর এপার-ওপার শত শত ব্রিজ-কালভার্টের ওপর দিয়ে সে ভারী যানবাহন অনায়াসে ছোটাছুটি করে কোনো ক্ষতি হয় না। সব ক্ষতি যমুনার ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর। এই খোঁড়া যুক্তি মানা যায়? আবার যখন ট্রেন যায় পাঁচটি ট্রাকের সমান লোড ট্রেনের প্রতিটি বগির, তার ২০-২৫টি বগি একসঙ্গে যায়। তখন সেতু ভেঙে পড়ে না। রেলে তেলের ট্যাংকার, প্রতিটি ৫০ টন তেল বহন করে। ট্যাংকারের ওজনও ১৫-২০ টন। এর অন্তত ২০-২৫-৩০টি ট্যাংকার একসঙ্গে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়, ভেঙে পড়ে না। ভেঙে পড়ে যদি ট্রাকে ১০ টনের জায়গায় ১১ টন থাকে তাহলে। দিনরাত জিনিসপত্র নামাতে-ওঠাতে গিয়ে পেরেশানির শেষ নেই। মালপত্র হারিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা রাতদিন চিৎকার করে, কোনো প্রতিকার নেই।
এবার আসি রেলসেতু বিষয়ে। যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ৫০০- ৬০০ গজ উজানে ৩০ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেলসেতুর কাজ উদ্বোধন করেছেন। শুনলাম ১০০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারবে- এটা খুবই আনন্দের কথা। বর্তমানে বুলেট ট্রেনের আমলে শত মাইল গতি কোনো গতিই না। এখন বুলেট ট্রেন ৬০০-৭০০ কিলোমিটার গতিতে চলে। আকাশে বিমানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। অনেক বিমান ৪০০-৪৫০ কিলোমিটার বেগে চলে। সাধারণত বড় বড় প্লেনগুলো ৮০০ কিলোমিটারের বেশি গতি নেয় না, সেখানে ট্রেনের গতি ৬০০-৭০০ কিলোমিটার অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়। তাই যে সেতুর ওপর দিয়ে এ রকম দ্রুতগতির ট্রেন চলবে তার কম্পন সইবার ক্ষমতা থাকবে অনেক বেশি। আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু শেষ হওয়ার পথে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগে মুখ ফিরিয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা নেত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেন। এখন বিশ্বব্যাংক আমাদের টাকা দিতে দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে। তাই যমুনা রেলসেতু একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই বলি কারণ তাঁকে ছাড়া অন্য কারও কিছু করার নেই। বঙ্গবন্ধু সেতুর পেটের ভিতর দিয়ে যেমন আরেকটি পথ করা যেত সেটা সড়কপথই হোক আর রেলপথ। শুধু কিছু ভেনটিলেশনের ব্যবস্থা করলেই হতো। ঠিক তেমনি যমুনা রেলসেতুতে নিচ দিয়ে ট্রেন চলবে। ওপর ফাঁকা পরিত্যক্ত, কোনো কাজে লাগবে না। একই রকম স্ট্রাকচার পদ্মায়- ওপর দিয়ে গাড়ি-ঘোড়া, নিচ দিয়ে রেল। এখানে শুধু রেল কেন? ওপর দিয়েও তো আরেকটি সড়কপথ প্রায় একই খরচে করা যেতে পারে। ওপরে সড়কপথ করতে যদি স্টিল স্ট্রাকচারগুলোয় সামান্য রদবদল আনতে হয় আনা হবে। আমার তো মনে হয় যে টাকায় রেলসেতু হবে তার থেকে ২০ শতাংশও অতিরিক্ত খরচ করতে হবে না। স্টিল স্ট্রাকচারে ’ভি’র মতো ওপর নিচে যে জয়েন্ট দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মাঝে আরেকটা ’আই’ বসিয়ে দিলে ওপরে নিচে ওয়েট বেয়ারিং ক্ষমতা বেড়ে যাবে শতগুণ। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তরিক অনুরোধ একটু ভেবে দেখবেন, এক খরচেই যদি দুটি পথ পাওয়া যায় তাহলে কেন দেশের অর্থ নষ্ট করা হবে।

তাই সনির্বন্ধ অনুরোধ, যে দেশ স্বাধীন করেছি সেই স্বাধীন দেশে বিজয়ের মাসে সরকারপ্রধান প্রিয় ভগ্নির কাছে বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখার আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি। একই খরচে যদি আরেকটি সেতু পাওয়া যায় তাহলে আপত্তি কোথায়? পদ্মা-যমুনার ওপর দেশের উন্নয়নে আমাদের আরও সেতুর প্রয়োজন হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! গত দুটি খুশির ঈদের সময় বঙ্গবন্ধু সেতুতে যে যানজট দেখেছি তা বলার মতো নয়। একবার আমি যানজটের সময় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা গিয়েছিলাম। ফেরার পথে মির্জাপুর থেকে উল্টো পথে এসেছিলাম। উল্টো পথে এসেছিলাম বলে বাড়ি ফিরে ইফতার করতে পেরেছিলাম। সকাল ৮টায় যাওয়ার পথে যাদের নাটিয়াপাড়া-জামুর্কীর কাছে দেখে গিয়েছিলাম, সেই তাদের বিকাল সাড়ে ৪টা-৫টায় করটিয়ার কাছে পেয়েছিলাম। ৮টা থেকে সাড়ে ৪টা-৫টা, সাড়ে ৮-৯ ঘণ্টায় তারা ৩-৪ কিলোমিটার এগোতে পেরেছিল। তাই বঙ্গবন্ধু সেতুর মতো আরেকটি সেতু হলে কারও কোনো ক্ষতি হবে না।

বরং দেশের জন্য লাভই হবে। সর্বোপরি কোনো কাজেই যদি না লাগে কোনো জরুরি অবস্থায় শুধু সামরিক বাহিনীর পারাপারের জন্যও যমুনা রেলসেতুর ওপর দিয়ে একই খরচে আরেকটি সড়ক যোগাযোগ হলে হয়তো তখন কাজে লাগবে। তাই প্রস্তাবটি ভেবে দেখবেন।

যমুনা রেলসেতু নির্মাণের সময় বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা একটি প্রশংসার কাজ হয়ে থাকবে।

সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাস্তাঘাট এবং সেতু ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং এরই মধ্যে অনেক কর্মকাণ্ড তারা সমাপ্ত করে ফেলেছেন এবং তালিকায় রয়েছে আরও বেশ কিছু প্রকল্প যেগুলো এখনও নির্মাণাধীন রয়েছে এসব প্রকল্প নির্মাণ করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে দেশের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে দেশে এমন অনেক প্রকল্প রয়েছে যেগুলো শুধু সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে তৈরি হওয়ার জন্য

Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.