সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ঘটে গেল এমসি কলেজে একটি দুঃখজনক ঘটনা সেখানে স্বামীর সাথে বেড়াতে গিয়ে স্ত্রীএই ঘটনার মুখোমুখি হয় এরপর সারাদেশে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল কিন্তু তার কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে শুরু হয় আরও একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা মূলত নোয়াখালীর এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল যখন এই ভিডিওটি ছাড়া হয়েছিল

বেগমগঞ্জের নারীটি র্ষ/ণে/র শিকার হয়েছে কখন জানেন? যে সময় থেকে সে একা থাকা শুরু করেছে। বয়সে বড়রা তো বটেই, তার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ বছরের ছোটরাও ভাবতে শুরু করেছিল–এই নারীকে ’/ভো/গ/’ করা সম্ভব! ঘটনার শুরু সেখানেই।
কোনও নারীর একা থাকা মানেই খারাপ, সে সবার। তাকে ’খারাপ মেয়ে’ তকমা দেওয়া যায়। /ধ/র্ষ/ণে/র হু/ম/কি/ দেওয়া যায়, রাত-দুপুরে দল/বেঁ/ধে ঘরে ঢুকে যাওয়া যায়। নারীর ’/স/তী/’ থাকতে হলে ঘরে একজন পুরুষ রাখতেই হবে। পুরুষ হলো ’স/তী/ত্বে’র সাইনবোর্ড। তো ধরেন, সেই সাইনবোর্ড নিজে খারাপ মানুষ। একজন সংসারী মানুষ হওয়া দায়িত্ববান, ভালোবাসার আস্থা তৈরি করে মায়া দিয়ে পরিবারকে জড়িয়ে রাখা–এসবে তার কিছু যায় আসে না।
এমন মানুষের সঙ্গে কতদিন থাকবেন? ধরা যাক, আপনাকে সে /নি/র্যা/ত/ন/ করে, আপনার চাওয়া না চাওয়ার কোনও মূল্য নেই তার কাছে। আপনি বুঝতে পারেন হাজার মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে সম্পর্ক; তারপরও ’সতী’ থাকার জন্য এই সাইনবোর্ড কি ঝুলিয়ে রাখবেন? কতদিন?
আপনি সাহসী হলেন, ভাবলেন এরচেয়ে একা জীবন ভালো। কিন্তু তখন থেকে শুরু হবে আপনার মূল যুদ্ধ। আপনি কারও সঙ্গে মিশতে পারবেন না, যেকোনও আনন্দ-উৎসব হয়ে যাবে নিষিদ্ধ। কারণ আপনার সাইনবোর্ড নেই, আপনি খারাপ। আপনি একা থাকেন, তাই চরিত্রের দোষ আছে।
কোথায় যাবেন আপনি? ভাবলেন বিয়ে করবেন আবার। এবার হয়তো একজন মানুষ পাবেন বর হিসেবে। আপনাকে নিয়ে কথা বলা বন্ধ হবে। কিন্তু বিয়ে করার পর নিশ্চিন্তে থাকবেন কি? বিয়ের দিন থেকে নাম হবে ’পুরুষ খে/কো’! যাদের কষ্ট হচ্ছিল একা থাকা নিয়ে, যারা চরিত্রহীন বলছিল, তারাই রা/ম/দা নি/য়ে ঝাঁ/পি/য়ে প/ড়ে প্রশ্ন করবে–কেন বিয়ে করলেন? 
পুরুষ একসঙ্গে চারটা বিয়ে কিংবা পঞ্চাশটা উপপত্নী রাখতে পারবেন, কিন্তু মেয়ে হয়ে কেউ দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারবেন না? 
তাহলে কী করবে? একাও থাকতে পারবে না, দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারবে না। 
যারা এত কথা বলেন, তারা আসলে কী চায়? একজন মানুষ কার সঙ্গে জীবন কাটাবে, কেমন হবে সেই জীবনসঙ্গী–তার মতো করে কেন সে বাছাই করতে পারবে না? 
আমার তো মনে হয় সতীদাহ প্রথা চালু করতে পারলে এক শ্রেণির মানুষ আরাম পেতেন। ছাড়াছাড়ি হলে বা বিধবা হলে পু/ড়ি/য়ে মে/রে ফে/লো। একটা মেয়ের জীবন-যাপন কিংবা তার বেঁচে থাকা নিয়ে এত মাথা ব্যথা কেন অনেকের? আবার তাদের মধ্যে অনেকেই বলছেন/ ধ/র্ষ/ণ/ ক/মার কথা! যে মানুষটি কোনও মেয়েকে সম্মান করা শুরুই করতে পারে না; সে তার চূড়ান্ত অসম্মান নিয়ে বিদ্রোহী হবে–এমনটা আমি ভাবি না অন্তত। 
জানেন তো, /ধ/র্ষ/ণে/র/ চিন্তা মাথা থেকেই শুরু হয়। বিশ্বাস করুন, বেঁচে থাকতে যা যা লাগে একজন নারীরও ঠিক তাই-ই লাগে। নিজের মতো বেঁচে থাকার অধিকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন দিয়েছে সবাইকে। কারও নিজের মতো বেঁচে থাকার স্বাধীনতা আপনার কথার ছুরি চালিয়ে নষ্ট করবেন না। এই আপনি, আপনাদের কথার ভয়ে মানুষ বেঁচে থাকা ভুলে যাচ্ছে। মানুষকে বাঁচতে দিন, তার মতো করে। 



 সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এক মহিলার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় এবং ওই ভিডিওতে দেখা যায় ওই মহিলার সাথে দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটিয়েছে কিছু মানুষ সেখানে প্রতাপশালী দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার সহ আরো বেশ কয়েকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে দেশে উত্তাল হয়েছে সাধারণ মানুষ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড যারা দেশে ঘটাচ্ছে তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন তারা

News Page Below Ad