সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ এর ঘটনার পর থেকে দেশে একরকম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি মানুষের তিক্ততা চলে এসেছে। বিশেষ করে টেকনাফে মেরিন ড্রাইভের সিনহা মোহাম্মাদ রাশেদ কে যেভাবে এই ঘটনার সম্মুখীন করা হয়েছে এবং বিনা অপরাধে একজন সাবেক সেনাবাহিনীর মেজর কে এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হল সেটা নিয়ে মানুষের চিন্তার কোন শেষ নেই এবং সেইসাথে কেন এবং কি কারনে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এই ঘটনার পেছনে আরও কাদের হাত আছে সেগুলো জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মানুষ




আমার মনে হচ্ছে, প্রদীপ-লিয়াকতের এই ভিডিওটি করা এবং ফাঁস করা দুটিই খুব পরিকল্পিত। প্রদীপ-লিয়াকতের প্রতি মানুষের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা তো আছেই, আছে মামলার তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা। সবচেয়ে বড় চেষ্টা হলো পুলিশ বাহিনীর সাথে র্যাব এবং সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব তৈরি। কিন্তু বিষয়টা খুব সহজ। অপরাধী কয়েকজন ব্যক্তি, এখানে এক বাহিনীর সাথে আরেক বাহিনীর দ্বন্দ্বের কিছু নেই। যারা ব্যক্তির দায়কে বাহিনীর কাঁধে টেনে এনে এক বাহিনীর সাথে আরেক বাহিনীর দ্বন্দ্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছেন; তাদের চিহ্নিত করতে হবে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

এবার আসি রিমান্ডে নির্যাতন প্রসঙ্গে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্তকারী সংস্থা অভিযুক্ত আসামিকে রিমান্ডে নেয় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। একজন দক্ষ ও কৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা প্রশ্নের পর প্রশ্ন করেই আসামির কাছ থেকে সত্যটা বের করে আনেন। নানান ক্লু, তথ্য, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত আগায়। কিন্তু তেমন দক্ষ ও কৌশলী কর্মকর্তা নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে রিমান্ড মানেই যেন নি..।তন, নিজেদের মনের মতো স্বীকারোক্তি আদায় করা।

অবশ্য শুধু বাংলাদেশ নয়, হেফাজতে নি..নের অভিযোগ আরও অনেক দেশেই আছে। সভ্যতার পরাকাষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত গুয়ান্তানামো বে কারাগারের ওয়াটার থেরাপির কথা নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যাননি। বিশ্বের যত দেশেই থাকুক, রিমান্ডে নি..তন বিচারবহির্ভূত, তাই এটা বন্ধ করতেই হবে। রিমান্ডে আসামি জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে সত্য বের করতে হবে, সাজানো স্বীকারোক্তি নয়।


আজ যখন পুলিশের দুই সাবেক সহকর্মী রিমান্ডে নি...তনের শিকার, তখন নিশ্চয়ই তাদের খারাপ লাগছে। একবার ভাবুন, আপনার সহকর্মী বা স্বজনের ওপর রিমান্ডে নি...তন হলে আপনার যেমন কষ্ট হয়, আমার ভাই বা স্বজনের ওপর যখন আপনারা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নি...তন করেছেন; আমাদেরও কিন্তু খারাপ লেগেছে, কষ্ট হয়েছে। পুলিশের সাবেক সদস্য বলে প্রদীপ-লিয়াকতের ওপর নি...তন করা যাবে না, আর একই কাজ আপনারা বছরের পর বছর করে যাবেন; তা তো হয় না। প্রদীপ-লিয়াকতের পরিণতিটা মাথায় রেখে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য শপথ নিন, আজ থেকে কেউ আর রিমান্ডে কারো ওপর নি...তন করবেন না, ক্রস.। নামে কাউকে. করবেন না। একজন মানুষ অপরাধী কিনা, হলে কতটা, তার কী শাস্তি হবে; তা আদালত ঠিক করবে; আপনি নন।


প্রদীপকে চার দফায় ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তার দাবি সত্যি হলে, তাকে রিমান্ডে নি...তন করা হয়েছে। কিন্তু কথিত নি...তনের পরও তিনি স্বীকারোক্তি দেননি। তাহলে কি প্রদীপ নির্দোষ। অনেকে আরও নি...তন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের দাবি করেছেন। যেন প্রদীপ স্বীকার না করলেই তিনি বেঁচে যাবেন। ব্যাপারটা তো তা নয়। প্রদীপের নির্দেশে লিয়াকত করে মেজর (অব.) সিনহাকে .. করেছেন, এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। প্রদীপ স্বীকার করুক আর না করুক, তার বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। এমন ঠান্ডার মাথার .. কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। কিন্তু তাদের রিমান্ডে নি...তনও সমর্থনযোগ্য নয়।
সব ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। এমনকি ভিকটিম আমার স্বজন হলেও আমি অভিযুক্তদের বিরোধিতা করবো। আমি আইনের শাসন চাই। রিমান্ডে নি..তনকে সমর্থন করছেন; তারা কি সবসময় এ ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের পক্ষে থাকেন, নাকি সময়ে সময়ে? একবার ভাবুন, আপনার স্বজন যদি বা রিমান্ডে নি..তনের শিকার হয়; তখনও কি আপনি এর পক্ষে থাকবেন। অমুক ক্রস হলে ঠিক আছে, তমুক হলে ঠিক নেই বা প্রদীপকে ইচ্ছামতো পি..টাও কিন্তু আমার ভাই হলে পিটাতে পারবে না- এমনটা তো হওয়া উচিত নয়।

আইনের শাসন কায়েম করতে হলে, সভ্যসমাজ গড়তে হলে সবাইকে সব ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আপনাদের দোদুল্যমানতা আর সমর্থনের কারণেই কিন্তু সরকার বছরের পর বছর চালিয়ে যেতে পারছে। এই বেআইনি কর্মকাণ্ড, দায় কিন্তু সমর্থক হিসেবে আপনাদেরও নিতে হবে।


এটা ঠিক প্রদীপও ওসি থাকার সময় অনেককে রিমান্ডে এনে করেছেন। কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ওপর বর্ণনা তো গা শিউরে ওঠার মতো। প্রদীপের বিরুদ্ধে নামে ২০৪টি র অভিযোগ আছে। আমি দাবি করছি, মেজর (অব.) সিনহা মামলার পাশাপাশি বাকি অভিযোগগুলোও যেন তদন্ত করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হয়। কোনো অন্যায় যেন বিচারের বাইরে না থাকে। প্রদীপ ওসি থাকতে মানুষের ওপর করেছে, তাই এখন তার ওপর হওয়া ঠিক আছে বা প্রদীপ ২০৪টা করেছে বলে তাকেও উচিত- এ ধরনের ভাবনায় বড় গলদ আছে। একটা অন্যায় কখনোই আরেকটা অন্যায়ের যুক্তি হতে পারে না। প্রদীপ যেসব কারণে ঘৃণিত অপরাধী, সেই কারণগুলো যদি আপনি সমর্থন করেন; তাহলে আপনিও তো ঘৃণিতই হবেন।

আমি এই মুহূর্ত থেকে দেশে আইনের শাসন চাই। ন্যায়বিচার চাই, প্রতিশোধ নয়।
এরইমধ্যে সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ এর ঘটনা যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে যদিও রিমান্ডে ওসি প্রদীপ এর থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি তবে ওসি প্রদীপ এর দুই সহযোগী ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী এবং এসআই নন্দদুলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে এরই মধ্যে ওসি প্রদীপ লিয়াকৎ সহ এদের নিয়ে নানান তথ্য উঠে আসছে এবং তাদেরকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে

News Page Below Ad