ডক্টর সাবিনার চৌধুরী এবং রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদ করিমকে নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা। তাদের প্রতারণা এবং জালিয়াতির খবর এখন সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও তাদের নিয়ে চলছে আলোচনা বিশ্বের অনেক গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশকে নিয়ে ইতিমধ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করতে শুরু করেছে এবং বাংলাদেশিদেরকে দোষারোপ করা হচ্ছে নতুন করে ওই সকল দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য
প্রিয় বন্ধু নঈম নিজাম লেখেন অসাধারণ। কিন্তু তিনি বড় সেকেলে। তার লেখায় উত্তম-সুচিত্রার পানসে প্রেমের জন্য অফুরন্ত আবেগ। আবেগী ভালোবাসার রোমান্টিকতায় মুগ্ধতা। সময় এখন বদলে গেছে। উত্তম-সুচিত্রার নিটোল প্রেমের গল্প আজ বুড়োদের স্মৃতিকাতরতা। এখন ’পথে হলো দেরি’র যুগ নয়, এখন যুগ হলো ’একথা টাইগার’, ’দাবাং’ কিংবা ’রাউডি রাঠোর’-এর। এখানে ভিলেন থাকবে দূর দেশে। দুর্নীতিবাজই হবে নায়ক। সবকিছু চলবে তাদের ইশারায়। আর সঙ্গে থাকবে উদ্দাম আইটেম গান। এখন আর উত্তম-সুচিত্রার ’তুমি না হয় রহিতে কাছে’ গানে মানুষ পুলকিত হয় না। এখন ’মুন্নি বদনাম’-এর উদ্দামতায় মানুষ হারাতে চায়। সংক্ষিপ্ত পোশাকে নায়িকা বৃষ্টিতে না ভিজলে আবার কীসের গান?

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক সময়ের সঙ্গে আধুনিক না হতে পারলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঠিকই পেরেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানে, করোনাকালে এ দেশের জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যের কী বিপর্যয় ঘটেছে। আর এ সময় জনগণকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখাটা ভী-ষ-ণ জরুরি। এখন উত্তম-সুচিত্রার প্রেমে মানুষ আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এখন দরকার সালমান-ক্যাটরিনার রগরগে কেমিস্ট্রি। এজন্য করোনাকালে জনগণের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মুম্বাই ধামাকার মঞ্চস্থ করেছে। এ চলচ্চিত্রের নাম হতে পারে ’আঃ মিঠু, বাঃ সাহেদ, ইস্ সাবরিনা’। এ লাইভ সিনেমা শুরু হতেই দেশের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, টেলিভিশনে, সংবাদপত্রে। মানুষ স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোমাঞ্চকর কাহিনিতে বুঁদ হয়ে গেছে। মিঠু, সাহেদ আর সাবরিনার গল্পে মানুষ করোনার আতঙ্কের কথা ভুলে গেছে। অনিশ্চয়তায় ভরা আগামীর কথা ভুলে, আহ্লাদে আটখানা হয়ে আড্ডায় মেতেছে। মানুষ পেয়েছে তীব্র উত্তেজনা, শ্বাসরুদ্ধকর রোমান্স আর রগরগে যৌন সুড়সুড়ি। এটা উত্তম-সুচিত্রার প্লেটোনিক প্রেম আর আবেগ নয়। এটা ক্যাটরিনা কিংবা সোনাক্ষির কামময় উত্তেজনা। করোনার চার মাসে স্বাস্থ্য অধিদফতর অসাধারণ এক মুম্বাই ধামাকা চলচ্চিত্রের পান্ডুলিপি লিখে ফেলেছে।

এ পান্ডুলিপির একটি প্রধান চরিত্র মিঠু। মিঠু যে কোনো হিন্দি ছবির গডফাদার বা দাউদ ইব্রাহিম গোছের একটি চরিত্র। গডফাদারদের ছোটবেলা থাকে করুণ, নির্মম, আকণ্ঠ দারিদ্র্যের মধ্যে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পা-ুলিপির মিঠু চরিত্র তেমনই। হিন্দি ছবির মাফিয়াদের উত্থান হয় অবৈধ পন্থায়, রীতিমতো লুটতরাজের মাধ্যমে। এ মিঠুও তেমনি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লুটপাটই তার বিত্তবৈভবের উৎস। হিন্দি ছবিতে আমরা যেমন দেখি আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডনদের সঙ্গে প্রশাসন এবং প্রভাবশালী মহলের প্রকাশ্য ও গোপন সখ্য থাকে। তাদের কাউকে অর্থ দিয়ে, কাউকে ’অন্য কিছু’ দিয়ে হাত করে ডন। যেমন ’ডন’ ছবিতে শাহরুখ খান। অন্য কিছুর সঙ্গে অবশ্যই লাস্যময়ী, যৌন আবেদনময়ীরা থাকবে। মিঠুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হুবহু মিলে যায়। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, প্রশাসনের সর্বত্র মিঠুর লোক আছে। চিত্রনাট্যে মুহূর্তেই সব খবর মিঠুর কাছে চলে যায়। বড় কর্তা থেকে পিয়ন-চাপরাশি সব পদেই আছে মিঠুর লোক। এরা মাসে দুটো বেতন পায়। একটা বেতন সরকারি কোষাগার থেকে, আরেকটা মিঠুর কাছ থেকে। অন্যসব ব্যাপারে দুই নম্বরি করলেও এই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ব্যাপারে মিঠু একেবারে পাক্কা। হিন্দি ছবির ’ডন’দের মতোই মিঠু দয়াময়। মিঠু যখন স্বাস্থ্য অধিদফতর বা মন্ত্রণালয়ে যান, তখন টাকার বান্ডিল নিয়ে যান। লিফটম্যান থেকে শুরু করে পিয়ন-দারোয়ান-ড্রাইভার সবাই নতুন টাকায় ’বকশিশ’ পায়। এরা হলো মিঠুর পে-রোলে থাকা চামচা। এরা ফোন করে জানায়, মন্ত্রী-সচিব অফিসে আছেন কিনা। কোন ফাইল কোথায় আছে, ইত্যাদি। হিন্দি ছবির কাহিনির মতোই মিঠুর সাম্রাজ্য স্ফীত হয়ে ওঠে। বাড়তে থাকে প্রভাব-প্রতিপত্তি। কিন্তু মিঠু জানেন ’শত্রু’রা তার পিছু নিয়েছে। এজন্য মিঠু দেশান্তরি হন। সব টাকা সরিয়ে ফেলেন বিদেশে। নিরাপদ দূরত্বে থাকতে স্থায়ী হন দূরদেশে। যেমন দাউদ ইব্রাহিম কিংবা মাফিয়া ডনরা দেশ ছেড়ে যায় তেমনি। দেশে না থাকার যেমন সুবিধা আছে, তেমন সমস্যাও আছে। মিঠুর অনুপস্থিতিতে ’ছিঁচকে চোর’রাও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তারাও মিঠুর মতো বিত্তবৈভবের মালিক হতে চায়। মিঠুর একচেটিয়া ব্যবসায় ভাগ বসাতে চায়। এটা তো মেনে নিতে পারেন না মিঠু। দূরদেশ থেকে নির্দেশনা দেন। সব ’ছিঁচকে চোর’কে শায়েস্তা করা হয়। তারা ’নিষিদ্ধ’ হয়। কিন্তু মিঠু ধরাছোঁয়ার বাইরে। মিঠু সিস্টেমের অপরিহার্য অংশ। কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, মিঠুর তৈরি করা সিস্টেমেই চলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক মুখ্য চরিত্র হলেন সাহেদ। সাহেদ হলেন গডফাদারদের সৃষ্ট এক পুতুল। সাহেদের গডফাদাররা মিঠুর মতো পলাতক নন। দেশেই প্রভাবশালী, ক্ষমতাধর। এ চরিত্রটা হলো অ্যাকশন থ্রিলার সঙ্গে একটু হরর মেশানো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিত্রনাট্যের সাহেদ এক ভৌতিক চরিত্র। এক ব্যক্তি দুই নামে। নাগরিক পরিচয়পত্র দুটি। এক সাহেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত প্রতারক। ২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ব্যাপারে সতর্কবার্তা জারি করে। আরেক সাহেদ সুশীল, আওয়ামী লীগের ’রতœ’। এ যেন ’শাহেনশাহ’ সিনেমার অমিতাভ বচ্চন। কিংবা ফ্যান ছবির শাহরুখ খানের অনবদ্য অভিনয়। এক সাহেদ নিত্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন। আরেক সাহেদ মানুষকে জ্ঞান বিতরণ করেন। এক সাহেদ করোনা মহামারীতে ’আর্তমানবতা’র সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার দুটি হাসপাতাল কভিড চিকিৎসার জন্য ’উৎসর্গ’ করেন। আহা মানবদরদি! তিনি নিয়মিত টকশোয় যান। দেশ-জাতি নিয়ে কথা বলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান শুনে আমরা শিহরিত হই। মনের অজান্তে বলে উঠি, আহারে! এসব মানুষের জন্যই দেশটা এখনো টিকে আছে। আরেক সাহেদ মদের আড্ডায় টকশোর উপস্থাপকদের বশীভূত করেন। অফিসে বসে বানোয়াট করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ইচ্ছামতো বিল বানান। অফিসে টর্চার সেল বানিয়ে পাওনাদারদের বেদম পেটান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ শ্বাসরুদ্ধকর সিনেমায় দুই সাহেদকে এক করে দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি এ গল্পে ’সিংগাম’-এর অজয় দেবগন, কিংবা রাউডি রাঠোর-এর অক্ষয় কুমার। চিত্রনাট্যের এ পর্যায়ে দেখা গেল এটা ’জোডুয়ার’ নকল পা-ুলিপি নয়। দুই সাহেদ জোড়ুয়া মতো দুই ব্যক্তি নন। একই ব্যক্তি। দুই সাহেদ একই। এমনকি তিনি মুখোশ ব্যবহার করেননি, প্লাস্টিক সার্জারিও না। একই মানুষ একাধারে প্রতারক এবং সুশীল। একদিকে সেবক অন্যদিকে হন্তারক। সাহেদ চরিত্রে কিছুটা হরর মেজাজ রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। যে সাহেদকে ২০১৬ সালে ’প্রতারক’ ঘোষণা করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেই সাহেদ আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বৈঠক করেন! হিন্দি সিনেমায় ’ভূত’কে আশপাশের লোকজন দেখে না। সিনেমায় ভূতকে কেউ দেখে না, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন মানুষ দেখে পরিচালক যাকে দেখাতে চান। সাহেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিতি তেমনি এক ভৌতিক ব্যাপার। মন্ত্রী, সচিব কিংবা বড় কর্তারা সাহেদকে দেখতে পাননি। কারণ সাহেদ তো ভূত, অদৃশ্য মানব। শুধু ছবিতে দেখা যায়, বাস্তবে দেখা যায় না। সাহেদ চরিত্রে ভৌতিক ব্যাপার আরও আছে। রিজেন্ট কেলেঙ্কারিতে যখন হইচই পড়ে গেল, চারদিকে দর্শকরা বিস্ময়ে অভিভূত; তখন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার কর্মচারীকে দিয়ে বাণী পাঠালেন গণমাধ্যমে। জানালেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর কিছু জানে না, সব হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আদেশে। মন্ত্রণালয় এবার খেপে গেল অধিদফতরের ওপর। এ যেন অজয় দেবগনের ’রেইড’ ছবির চিত্রনাট্যের কিছুটা অনুকরণ। যখন প্রভাবশালীর বাড়িতে অবৈধ টাকা, সোনাদানার বিপুল ভান্ডার পেল, তখনকার দৃশ্য আর সাহেদের রিজেন্ট র‌্যাবের অভিযানের দৃশ্য যেন কপি পেস্ট। এরপর বেচারা প্রভাবশালী, বাঁচার জন্য ওপরমহলে দেনদরবার-তদবির করতে লাগলেন। কিন্তু তখন কেউ তার দায় নেয় না। কেউ তাকে চেনে না। এখানেও ঠিক তাই, স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক বললেন, কোথায়, আমি তো তাকে ঠিকমতো চিনিই না। আবার মন্ত্রী বললেন, রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। কিন্তু গণমাধ্যমে ছবি বেরিয়ে গেল। মন্ত্রী, তিন সচিব (একজন স্বাস্থ্যসেবার প্রাক্তন সচিব, দুজন অন্য মন্ত্রণালয়ের সচিব) মহাপরিচালক সবাই আছেন, খোশমেজাজে। তাহলে সাহেদকে কি তারা দেখেননি? ভৌতিক চরিত্র সাহেদ হয়তো তখন অদৃশ্য হয়েই ছিলেন!

কিন্তু হিন্দি ছবির ফরমুলায় একটি বিষয় বাকি রইল। নায়িকা। এখন জনপ্রিয় নায়িকরা সুচিত্রা কিংবা সুপ্রিয়ার মতো আটপৌরে হলে হবে না। তাদের স্বল্পবসনা হতে হবে, বৃষ্টিতে ভিজতে হবে, যৌন আবেদনময়ী হতে হবে। যেমন ক্যাটরিনা, কারিনা, নিদেনপক্ষে রাধিকা আপ্তের মতো নায়িকা না হলে সিনেমা বাজার পাবে না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ চিত্রনাট্যে নায়িকা তেমনি, পর্দায় তার এন্ট্রিও নাটকীয়তায় ভরা। সবুজ ঘাসে ভরা এক মাঠ। সেই মাঠে শাড়ি পরে একাকী দাঁড়িয়ে নায়িকা। আস্তে আস্তে ক্যামেরা তার কাছে এসে ফিক্সড হলো। নায়িকা আবেগঘনভাবে বললেন ’আমাদের লোকদের তিতুমীর কলেজের কর্মচারীরা মারধর করে, পিটিয়ে শেষ করে দিয়েছে।’ সুন্দরী নায়িকার এ কান্নাভেজা কণ্ঠে দেশের মানুষের হৃদয় বিগলিত হলো। এরপর তো সাবরিনা ডার্টি পিকচারের বিদ্যা বালানকেও অবলীলায় হার মানালেন। অফিসে, বাসে, আড্ডায় শুধু সাবরিনা। ইস্ সাবরিনা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবরিনা চরিত্রটি বহুমাত্রিক। একদিকে তিনি নির্যাতিতা। স্বামী তাকে টাকা বানানোর মেশিনের মতো ব্যবহার করে। স্বামীর জন্য তাকে এখানে-সেখানে যেতে হয়। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অনেক কিছু করতে হয়। এটা নিঃস্বার্থ প্রেমের গল্প নয়, গিভ অ্যান্ড টেকের এক দ্বন্দ্ব-সংঘাত। হিন্দি ছবির নায়িকাদের মতো সাবরিনারও গোপন প্রেম আছে। ভালোবাসার মানুষটি তাকে আগলে রাখে। কিন্তু এ আগলে রাখা প্লেটোনিক নয়, জৈবিক। একসময় সাবরিনার গোপন ভালোবাসা জেনে ফেলে তার ব্যবসায়িক স্বামী। এখানে ছোট্ট একটু মেলোড্রামা এবং অ্যাকশন আছে। স্বামী-প্রেমিক দ্বন্দ্ব, মারামারি, হাতাহাতি। তারপর সাবরিনা ভালোবাসার জন্য ঘর ছাড়েন। ’নিষ্ঠুর’ স্বামীকে ছেড়ে চলে যান। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে আরজিৎ সিংহের এক বেদনাবিধুর গান থাকতে পারে। কিন্তু শুধু দুঃখের গান দিয়ে ছবি হিট হয় না। ছবি হিট করার জন্য দরকার ধামাকা আইটেম সং। মালাইকা অরোরা কিংবা কারিনার মতো উদ্দাম নাচছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের ছবি হিট হবে কীভাবে? তাই সাবরিনার নানা ঢংয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মূলধারার গণমাধ্যমে। মানুষ (বিশেষ করে পুরুষরা) নিঃশ্বাস বন্ধ করে এ ছবি দেখতে থাকল। ব্যস, একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছায়াছবি প্রস্তুত। করোনার এ কঠিন সংকটে যখন মানুষ দিশাহারা, যখন জীবন-জীবিকার সংগ্রামে বিপর্যস্ত, তখন এ ছবির প্রকাশিত পা-ুলিপি মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। মিঠু, সাহেদ আর সাবরিনার ঘটনায় এ দেশের মানুষ বিমোহিত। এ অসাধারণ পান্ডুলিপির ছিটেফোঁটা পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে জেনেই মানুষের ঘুম হারাম। মানুষ সব চিন্তা ফেলে এদের নিয়ে মজেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর কিংবা মন্ত্রণালয় করোনা মোকাবিলায় এক নতুন মডেল বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করেছে। এ মডেল হলো ’বিনোদন মডেল’। নমুনা পরীক্ষা, আইসোলেশন, শারীরিক দূরত্ব ইত্যাদি সব ফালতু তত্ত্ব। আসল তত্ত্ব হলো বিনোদন তত্ত্ব। মিঠুর দুর্নীতির ফিরিস্তি দেখে মানুষের জ্বর ছুটে যাবে। সাহেদের প্রতারণার কাহিনি শুনে শ্বাসকষ্ট এমনিতেই বিদায় নেবে। মানুষ ঘন ঘন, জোরে জোরে শ্বাস নেবে। যেহেতু আমাদের করোনা রোগীর ৭০ ভাগ পুরুষ। তাই স্বাস্থ্য অধিদফতর সাবরিনাকে এনেছে। সাবরিনার উষ্ণতা ছড়ানো ছবি পুরুষদের সব উপসর্গ ভুলিয়ে দেবে। বাংলাদেশ করোনামুক্ত হবে।

কেউ কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন, এ ছবিতে নায়ক কে? এটা হলো উত্তম-সুচিত্র টাইপের প্রশ্ন। এখন ছবিতে ’খলনায়করা’ই নায়ক। শুদ্ধ, সাধু, সৎ নায়কের দিন নেই। যেমন নেই সিনেমার পান্ডুলিপিতে, তেমন নেই সমাজেও। এ কথায় যারা সহমত নন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই- ’পিকচার আভি বাকি হ্যায়’।

সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছে আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী এবং যে কেজি হেল্প কেয়ার এর চেয়ারম্যান ডঃ সাবরিনা চৌধুরী। এর আগে বিভিন্ন অনিয়ম এবং প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হন আরিফুল হক চৌধুরী এবং গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয় রিমান্ডে সেখানে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য তিনি দিয়েছেন এবং তার তথ্যের ভিত্তিতেই তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সেখানে তার স্ত্রী সদুত্তর দিতে না পারায় তাকেও গ্রেফতার করা হয় এবং স্পষ্টতই আরিফুলের বক্তব্যে তার স্ত্রীর অপকর্ম ফুটে উঠেছে

News Page Below Ad