দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের চলেছে অবসিত লকডাউন। মূলত দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সংক্রমনের হার যাতে কমে মানুষ যত সংক্রমিত না হয় সে কারণে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা দিয়েছিল এবং এর মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি সব রকমের কর্মক্ষেত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ যাবতীয় সব কিছু বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল এবং সাধারন মানুষকে ঘরে ফেরাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল কিন্তু এতে করে কোন ভাইরাসের সংক্রমণ থেমে থাকেনি বরং মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়তে শুরু করে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হতে শুরু করে এমন অবস্থায় এই ছুটি প্রত্যাহার করা হয়


নতুন সংক্রমণ শূন্য করতে হলে প্রথমে বের করতে হবে জাতীয় আর নট কত। আর নট যতো বেশি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ততো কঠিন। আর নট হলো একজন রোগী গড়ে কতজনকে সংক্রমিত করে তার হিসাব। প্রত্যেক এলাকার জনসংখ্যা হিসাব করে সেখানে আর নট অনুযায়ী সম্ভাব্য কেস কত হতে পারে সেটা বের করে সেই অনুযায়ী ত্রাণ, জনবল ও সম্পদ হিসাব করে নিতে হবে।
সারা দেশে প্রথমেই টানা ছয় সপ্তাহ পরিপূর্ণ লকডাউন দিতে হবে। কোন মানুষ তার প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না। প্রতিটি বাড়িতে ২টা কার্ড দেয়া হবে। যে দুটো কার্ড থাকলে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে। কিন্তু তাকে অবশ্যই বেরহবার সময় সেলফোনে একটা নির্দিষ্ট নম্বরে টেক্সট পাঠাতে হবে। সেলফোন তার লোকেশন ট্র্যাক করবে। একই সময়ে কতগুলি সেলফোন বাইরে আছে সেটা হিসাব করবে। তার ডেস্টিনেশন হিসাব করবে। করে তাকে অনুমতি দেবে সে বের হতে পারবে নাকি পারবে না। উবার যেভাবে এলাকাতে কয়টা গাড়ি আছে সেটা বলতে পারে একই ভাবে এই ফোন কতজন মানুষ বাইরে আছে সেটা দেখে তারপর অনুমতি দেবে যাতে বাইরে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত লোক না থাকে।
গরীব মানুষ যাদের সেল নাই তারা নিকটস্থ অনুমতি কেন্দ্রে গিয়ে অনুমতি নেবে। সেলফোন ছাড়াও মানুষকে অন্য পদ্ধতিতে ট্র্যাক করা সম্ভব। কোন গাড়িতে দুজনের বেশী থাকবে না। গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। রিকশা চালু থাকবে। ডিসইনফেকশন চেম্বারের ভেতর দিয়ে প্রতি ট্রিপের পর পর রিকশা ও ভ্যান পরিশুদ্ধ করতে হবে। মানুষ না। মাস্ক ছাড়া কেউ থাকবে না।
সকলেই সামান্যতম কাশি থেকে জ্বর, যেকোন রকম সন্দেহজনক লক্ষণ থাকলে সাথে সাথে সেলফ রিপোর্টিং করবে। সেটার জন্য অ্যাপ ও এসএসডি কোড নির্ভর টেক্সট চালু করতে হবে। যাতে যে কোন মোবাইল থেকে কেস রিপোর্ট করা যায়। যে কোন কেস এর কন্টাক্ট ট্রেসিং ও টেস্টিং দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে হবে। স্বাস্থ্য বিধিভংগ কারীকে জরিমানা করা ও শাস্তি দেয়া হবে।
সকল নতুন রোগী ও তাদের কনটাক্ট বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে মনিটরিং ও ট্র্যাক করতে হবে। যাদের আইসোলেশন দরকার তারা সেটা নেবে আর যার কোয়ারেন্টি , সে সেটা করবে।
বড় বড় কম্যুনিটি সেন্টার ও স্টেডিয়াম বা স্কুলকে আইসোলেশন সেন্টারে রুপান্তর করতে হবে। এতে করে প্রথম ২৮ দিনের মধ্যে সব রোগী সনাক্ত হয়ে গেলে তারা আর দুসপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হবেন। আর যারা সুস্থ ছিলেন তারা আর অসুস্থ হবেন না কারন আক্রান্তদের আমরা সরিয়ে নিয়েছি। এরপর এক দুজন যদি ধরা পড়ে তবে যেখানে ধরা পড়বে কেবল সেখানে সাড়াশি অভিযান চালানো হবে।
এরপরে যে য যে এলাকায় এরকম সাফল্য আসবে সেসব জায়গায় নতুন কেস শুণ্য হয়ে যাবে। আমরা লকডাউন, পরের ১৪ দিনের মধ্যে এলাকাভিত্তিক তুলে নেবো। এভাবে প্রথম ষাট দিন থেকে সত্তর দিনের মধ্যে নতুন কেস শূন্য হয়ে যাবে।
প্রতি সপ্তাহে আমরা প্রতি জেলার আলাদা আলাদা তথ্য দেবো। তাতে সব জেলার মানুষেরা নিজেরাই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করবেন। সবাই সহযোগিতা করলে এটা ৬০ দিনের মধ্যে করা যাবে।
আর কিছু লোক এখন এসে খাবার, জীবিকা এসব বলবেন, প্যাচাল শুরু করবেন। এখন রোগ নিয়ে কথা বলছি। অন্য স্ট্যাটাসে বলবো কিভাবে এই সময়ে খাবার ও নিত্যপণ্য পরিবহন ও বিতরণ করা হবে। এটা সম্ভব। প্যাচাল পরে। সর্বশেষ কেস যদি সত্তরতম দিনে আসে তবে ১০০ তম দিনের মধ্যে সে সুস্থ হবে অথবা মৃত্যুবরণ করবে।
আমরা সাধারণ ছুটি নামে সীমিত লকডাউনের তামাশা না করলে, এবং সঠিক গুরুত্ব দিয়ে ট্রেসিং, টেস্টিং এবং কেস ডিটেকশন করলে, এখন নতুন কেস থাকতো না বললেই চলে।
এর পাশাপাশি করোনা হলে সবাই মরে না এবং নতুনভাবে অর্থনীতি কিভাবে ঘুরবে এটার প্রচারণা চলবে। মানুষের মনোবল উচ্চ রাখার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চলবে।
জরুরী সেবাদানকারী ও এই কাজে অংশগ্রহণকারীরা সবাই এই সময়ে কাজ করবে। তারা কাজ করবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যাতে তারা সংক্রমণের উৎস বা শিকার না হয়। ‍
রিকশা ভ্যান চালকদের মজুর দের কাজ করার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা করে দেয়া হবে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে কাজ ও ত্রান দুটোই দেয়া হবে অবস্থা অনুযায়ী ভিন্ন পদ্ধতিতে। মাস্ক স্যানিটাইজার সাবান সহজলভ্য করা হবে।
খুঁটিনাটি অনেক বিষয় আছে সেটা এখানে লেখা হয় নাই। এই হলো কেস শূন্য করার সারসংক্ষেপ।


দেশে সাধারণ ছুটি আর হবে না এবং যেহেতু সাধারণ ছুটি দীর্ঘ আড়াই মাস বাংলাদেশ বহাল ছিল এবং সেখানে মানুষের দুরবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে যার ফলে সরকার সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং সকল কর্মক্ষেত্র গুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় তবে যেহেতু কোন ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো বাংলাদেশে বিদ্যমান রয়েছে এবং বেশ ভালোভাবেই সেটি চড়াও হয়েছে সে কারণে সাধারণ ছুটি না দিয়ে বরং এলাকাভিত্তিক ভাবে লকডাউন দেয়ার চিন্তাভাবনা করেছে সরকার এবং সেটা হবে জোন ভিত্তিক

News Page Below Ad