ডক্টর ফেরদৌস খন্দকার কে নিয়ে প্রথমদিকে কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছিল মানুষ তিনি খন্দকার মুশতাকের ভাগ্নে বাই জাতীয় অনেক কিছু বলা হয়েছিল এবং তিনি নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করতে দেশে আসছেন এমনটাও বলা হয়েছিল যার ফলে উত্তাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমগুলো। তবে অনেকেই ইতিবাচক দিক দেখছে তার এই আগমন অনেকেই বলছে যে যেহেতু তিনি চিকিৎসাসেবা দিতে বাংলাদেশে আসছেন সেহেতু তিনি যে ধরনের ই হোক না কেন এবং তার পারিবারিক প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন এটা আসলেই মানবিক দিক।এছাড়াও দেশে আসার পর তাকে বিভিন্ন পদে পদে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে যা খুবই দুঃখজনক


নিজেকে আমি দেশপ্রেমিক দাবি করি। আমি গভীরভাবে বাংলাদেশকে ভালোবাসি। প্রেমিক বা প্রেমিকার চোখে তার প্রেমিকা বা প্রেমিকই সবচেয়ে সুন্দর, বাস্তবে হয়তো সেটা সত্যি নয়। তেমনি হয়তো আরও অনেক সুন্দর দেশ আছে, তবুও আমার চোখে বাংলাদেশই সবচেয়ে সুন্দর, সকল দেশের রানি। আমি মনেপ্রাণে বাংলাদেশের ভালো চাই, নিজের ছোট্ট অবস্থান থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। খেলার মাঠে বাংলাদেশের হয়ে গলা ফাটাই। যতবার জাতীয় সংগীত শুনি, ততবার আমার চোখ জলে ভরে আসে। তবে আমি দেখেছি, যারা দেশের বাইরে থাকেন; হোন তিনি শ্রমিক বা শিল্পপতি বা ডাক্তার বা শিল্পী; দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা, আবেগ অনেক বেশি। এই করোনাকালে তার প্রমাণ পেয়েছি আরও বেশি করে। করোনা এক বৈশ্বিক মহামারি। বাংলাদেশের মানুষ যেসব দেশে আছে, সেসব দেশেও করোনার থাবা মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। তারপরও প্রবাসী ভাইয়েরা দেশের কথা ভাবছেন, সাধ্যমতো দেশের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। এই বন্ধ্যা সময়েও তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। ভেতরে থাকলে টের পাওয়া যায় না, বাইরে গেলে বোঝা যায় দেশ কতটা প্রিয়। আমারও বেশকিছু বন্ধু-বান্ধব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে থাকা অন্তত তিনজন ডাক্তার বন্ধু ও বড় ভাইকে দেখছি কীভাবে দেশের মানুষকে সাহায্য করার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন। ডা. সজল আশফাক, ডা. সেজান মাহমুদ, ডা. তিতাস মাহমুদ প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও নানাভাবে করোনাক্রান্ত বাংলাদেশের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। নিছক ডাক্তার নন, এই তিনজনেরই লেখালেখির হাত চমৎকার। সজল আশফাক জনপ্রিয় ছড়াকার ও সাহিত্যিক। সেজান মাহমুদ নব্বইয়ের দশকে বই লিখে, গান লিখে তোলপাড় তুলে আমেরিকায় গিয়ে কেন জানি লেখালেখি থেকে দূরে সরে গেছেন। তিতাস মাহমুদের সঙ্গে আমার আগে পরিচয় ছিল না। সম্প্রতি তার কয়েকটি লেখা পড়ে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। জিনগত বৈশিষ্ট্যের কথা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি। পিতা প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদের সরস গদ্যের উত্তরাধিকার বহন করছেন তিনি। এই তিন ব্যস্ত ডাক্তারকে আমি কারণে-অকারণে খুচরা কাজে বিরক্ত করি, টকশোতে যুক্ত করি। তারা হাসিমুখে সব অত্যাচার মেনে নেন। আমি জানি এটা যতটা না আমার জন্য, তার চেয়ে অনেক বেশি বাংলাদেশের জন্য।
করোনাকালে এই তিনজন ছাড়া আরও একজন প্রবাসী ডাক্তারকে চিনেছি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডা. ফেরদৌস খন্দকার। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ইউটিউবে। করোনাকালে অনেকেই আমার ইনবক্সে নানা কিছু পাঠান। তার মধ্যে এই ফেরদৌস খন্দকারের বেশকিছু ভিডিও দেখেছি। যদিও তখনও তার নাম জানতাম না। তবে তার সহজ করে বলার স্টাইলটা ভালো লেগেছে এবং বেশকিছু তথ্য প্রয়োজনীয় ও হেল্পফুলও মনে হয়েছে। দেখলাম শুধু আমি নই, আরও অনেকেই তার ভিডিও পছন্দ করছেন, ভিউ দেখলে যা টের পাওয়া যায়। মাসখানেক আগে তার প্রোফাইল দেখে রিকোয়েস্ট পাঠাই, তিনি গ্রহণও করেন। তবে সে অর্থে তার সঙ্গে বন্ধুত্বটা হয়ে ওঠেনি। কারণ আমরা কেউ কাউকে চিনি না। ইনবক্সেও যোগাযোগ হয়নি। হঠাৎ দেখলাম তিনি বাংলাদেশে আসছেন এবং সেটা বেশ ঘটা করে, ঘোষণা দিয়ে। সাধারণ ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। সেই ফ্লাইটে চড়ে বসেন তিনি। সঙ্গে ৮টি স্যুটকেস; যেগুলো মাস্ক, পিপিইসহ নানা সুরক্ষা সামগ্রীতে ঠাসা। তার দাবি, তিনি করোনা দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই ঝুঁকি জেনেও বাংলাদেশে আসছেন। তিনি যখন ফ্লাই করছেন, তখন নিউইয়র্ক প্রায় নিরাপদ, আর প্রতিদিনই বিপদ বাড়ছে ঢাকায়। সুযোগ পেলে মানুষ যখন দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে, তখন একজন ডাক্তার নিরাপদ জায়গা রেখে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় আসছেন; এটা আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমি ভেবে রেখেছি, দেশে এসে তিনি কী করেন; সেটা খোঁজ রাখবো। কিন্তু আমাকে আলাদা করে খোঁজ নেওয়ার দরকার পড়েনি, তিনিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ডা. ফেরদৌস খন্দকার বিমানে থাকতে থাকতেই কেন জানি না তাকে ভিলেন বানানোর একটা সংঘবদ্ধ চেষ্টা শুরু হয়। প্রথম কথা হলো, ডা. ফেরদৌস এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন যে তাকে আলাদা করে হিরো বা ভিলেন বানাতে হবে। আর কাউকে জোর করে কিছু বানানো যায় না। একজন মানুষের কর্মই তার অবস্থান ঠিক করে দেয়। তবে আমাদের দেশে অপছন্দের মানুষকে হেয় করে ভিলেন বানানোর কৌশলটা পুরনো। অবশ্য এবার সেটা হিতে বিপরীত হয়েছে। ফ্লাই করার আগে তাকে যত মানুষ চিনতো, এখন চেনে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এমনিতে ডাক্তাররা সবসময়ই আমার কাছে হিরো। আর এই করোনা মোকাবিলায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে থেকে লড়াই করে যাচ্ছেন, সেই ডাক্তাররা আমার কাছে সুপার হিরো। ডা. ফেরদৌসও আমার কাছে সুপার হিরোই, নতুন করে বানানোর কিছু নেই।
ডা. ফেরদৌসের বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু বলছিলেন। তাতে আমি গা করিনি। কিন্তু যখন জাফর ভাই, মানে পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ লিখলেন, তখন আমি একটু নড়েচড়ে বসি। জাফর ভাই লিখেছেন, ডা. ফেরদৌস খন্দকার বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই এবং খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা। তিনি আরও দাবি করেছেন, ডা. ফেরদৌস তারেক রহমানের ডোনার। অন্য কারও কথা পাত্তা না দিলেও জাফর ভাইয়ের কথাকে পাত্তা না দিয়ে উপায় নেই। জাফর ভাইকে আমি এনসাইক্লোপিডিয়া মানি। বাংলাদেশের রাজনীতি, ছাত্র রাজনীতি, সাংবাদিকতার কিছু জানতে চাইলে আমি জাফর ভাইয়ের দ্বারস্থ হই। ছাত্রলীগের দুর্দিনের সৈনিক জাফর ওয়াজেদ একজন কবিও। ডাকসুর নির্বাচিত সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। পরে সাংবাদিকতাও করেছেন সাহসিকতার সঙ্গে। আশির দশকে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ছাত্রশিবিরের দৌরাত্ম্য, তখন তিনি দৈনিক সংবাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ছিলেন। তার তখনকার সাহসিকতা রীতিমতো কিংবদন্তি হয়ে আছে। আমি কখনও যাইনি, কিন্তু জাফর ভাইয়ের কল্যাণে চট্টগ্রামের বাংলা হোটেল যেন অনেক দিনের চেনা। তাই জাফর ভাই লিখেছেন বলেই আমি বিষয়টি সিরিয়াসলি নেই। তবে এবার মনে হচ্ছে কোথাও একটা ভুল হয়েছে। ডা. ফেরদৌসের বংশ ঠিকুজি তন্ন তন্ন করেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ডা. ফেরদৌস খন্দকারের বাড়ি দেবীদ্বার, খন্দকার মোশতাকের বাড়ি দাউদকান্দি, খন্দকার রশিদের বাড়ি চান্দিনায়। তিনজনেরই বাড়ি কুমিল্লা জেলায়, তিনজনের বংশগত পদবি ’খন্দকার’; এছাড়া তাদের মধ্যে আর কোনও মিল নেই, যোগাযোগ নেই। এখন কারও বাড়ি কুমিল্লায় হলে, আর নামের সঙ্গে খন্দকার থাকলেই যদি তাকে মোশতাক বা রশিদের আত্মীয় বানিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তো বিপদ। ডা. ফেরদৌসের বাড়ি তো দূরের উপজেলায়, কিন্তু আমার বাড়ি খন্দকার মোশতাকের উপজেলা দাউদকান্দিতে তো বটেই, আমরা একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। আমাদের পোস্ট অফিস দশপাড়া খন্দকার মোশতাকের বাড়ির ভেতরে। তার চেয়ে বড় কথা হলো, আমি ব্যবহার করি না, কিন্তু আমাদের বংশগত পদবিও ’খন্দকার’। বিষয়টা হলো কোনও ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, আঞ্চলিকতা দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করার কোনও সুযোগ নেই। কুমিল্লার সব মানুষ খুনি না, দেশের সব খন্দকারই মোশতাকের আত্মীয় না। কুমিল্লায় যেমন মোশতাক আছে, গোপালগঞ্জেও তো মুফতি হান্নান আছে। প্রত্যেকটি মানুষকে বিবেচনা করতে হবে তার নিজের কর্ম দিয়ে। তার গায়ের রং সাদা না কালো, তিনি হিন্দু না মুসলমান, তার বাড়ি বরিশাল না নোয়াখালী, তিনি খন্দকার না সাহা, তিনি আওয়ামী লীগ না বিএনপি তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। তিনি মানুষ কেমন, তিনি কী কাজ করেন, তিনি মানুষকে ভালোবাসেন কিনা, সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে কাজ করেন কিনা; সেটাই হলো আসল বিবেচনা। আমি মানুষকে সেভাবেই মাপি। তারপরও তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি, ডা. ফেরদৌস সত্যি মোশতাক বা রশিদের আত্মীয়। তাতেও তার অপরাধটা কোথায়? জন্মের দায় তো মানুষের নয়, কর্মের দায় তার।
ডা. ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ফেসবুকে আরও অভিযোগ দেখলাম তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদল করতেন। নিউইয়র্কেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নিউইয়র্কেরটা জানি না, তবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের তার সময়কার ছাত্রনেতাদের অনেকেই ফেসবুকে সচিত্র স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেছেন, ডা. ফেরদৌস সেখানে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ছাত্রশিবিরের সঙ্গে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। তারপরও আমি আবারও তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি, ডা. ফেরদৌস ছাত্রদলই করতেন এবং তিনি তারেক রহমানের ডোনার। কিন্তু ছাত্রদল করা বা তারেক রহমানের ডোনার হওয়াটাও তো অপরাধ নয়। ডা. ফেরদৌস যদি কোনও অপরাধ করে থাকেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার অপরাধটা কী সেটাই আমি বুঝতে পারছি না।
অপরাধ না করলেও শাস্তি পেয়ে গেছেন ডা. ফেরদৌস। করোনার সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখার পর তাকে হজক্যাম্পে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা মানুষকে কোয়ারেন্টিনে রাখাই উচিত। কিন্তু সেই ঔচিত্যটা তো সবার ক্ষেত্রে সমান হওয়াও জরুরি। কিন্তু একই ফ্লাইটে আসা ১৩৬ জনকে বাসায় যেতে দেওয়া হয়েছে। একমাত্র ডা. ফেরদৌসকে হজক্যাম্পে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অথচ তিনি দাবি করেছেন এবং দেখিয়েছেন তার শরীরে অ্যান্টিবডি পজিটিভ, তাই তার কোয়ারেন্টিনে থাকার দরকার নেই। কিন্তু তবুও তাকেই থাকতে হচ্ছে। সঙ্গে আনা তার ৮টি স্যুটকেসও আটকে দেওয়া হয়েছে ট্যাক্সের জন্য। নিয়মের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। তবে সাত সমুদ্র-তের নদীর ওপার থেকে উড়িয়ে আনা ডাক্তারদের সুরক্ষা সামগ্রীর ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় করা যেতো। তবে ডা. ফেরদৌস জানিয়েছেন, যে কেউ তার স্যুটকেসগুলো ছাড় করিয়ে যেকোনও হাসপাতালে দিয়ে দিতে পারবেন, তার কোনও দাবি নেই। ডা. ফেরদৌসকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো এবং স্যুটকেস আটকে রাখাকে কেন যেন প্রতিহিংসাপরায়ণতা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন চাচ্ছেন না ডা. ফেরদৌস মানুষকে সেবা দিক। কার বা কাদের কাছে ডা. ফেরদৌস এতটা গুরুত্বপূর্ণ?
আগে কী করেছেন জানি না, তবে করোনার সময় ডা. ফেরদৌস যা করেছেন বা করতে চাইছেন; তাতে আমি খারাপ কিছু দেখিনি। তবে কয়েকটি ভিডিও করা বা প্রবাসী বাংলাদেশি কারও কারও বাসায় গিয়ে চিকিৎসা দেওয়াটা বিশাল কোনও কাজ নয়। ডা. ফেরদৌস এলে এবং কাজ করলেই যে বাংলাদেশের সব সমস্যা মিটে যাবে তাও নয়। তিনি বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলায় কী করবেন, কোথায় করবেন; তাও স্পষ্ট নয়। সমস্যার বিশালতার কাছে ডা. ফেরদৌসের চেষ্টা কিছুই নয়। কিন্তু একজন লোক নিজের খেয়ে, নিজের পরে কিছু করলে তাতে কার কি যায় আসে? আর তিনি যা করেছেন বা করতে চাইছেন তাতে অল্প হলেও মানুষের উপকার হবে, কারও ক্ষতি অন্তত হবে না। তবে পুরো বিষয়টায় ডা. ফেরদৌসের তীব্র প্রচার লিপ্সার ছবি আছে। এটা কারও কাছে খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু সেটাও তো অন্যায়, অবৈধ বা খারাপ কিছু নয়।
ডা. ফেরদৌস দাবি করেছেন, তিনি এমপি-মন্ত্রী হতে চান না। কিন্তু কারও কারও অভিযোগ, তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে। যদি থাকে, সেটা তো আনন্দের ব্যাপার। কেউ রাজনীতি করতে চাইলে আমি খুশি হই, তাকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের সব মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে। সামরিক-বেসামরিক আমলারা অবসরের পর রাজনীতিতে নামেন। সেখানে একজন ডাক্তার, যিনি ছাত্রজীবনে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি করেছেন, তিনি চাইলে যেকোনও সময় রাজনীতি করতে পারেন। যেকোনও দলে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু তিনি চাইলেই তো আর নেতা বা এমপি-মন্ত্রী হতে পারবেন না। জনগণের জন্য কাজ করতে হবে, তাদের পাশে থাকতে হবে। তারপর দলের মনোনয়ন পেলে বা না পেলে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা। জনগণ ভোট দিলে এমপি হওয়া। রাজনীতির পুরো পথটাই বন্ধুর এবং সমস্যাসঙ্কুল। একজন ডাক্তার প্রবাসের নিশ্চিত জীবন ছেড়ে রাজনীতির অনিশ্চয়তায় আসতে চাইলে আমি তাকে স্বাগতই জানাবো। মেধাবীদেরই আরও বেশি রাজনীতিতে আসা উচিত।
ডা. ফেরদৌসের যেমন জনগণের জন্য কাজ করার বা রাজনীতি করার অধিকার আছে, তেমনি আমাদেরও অধিকার আছে তার বিরোধিতা করার। তবে সেই বিরোধিতা হতে হবে শালীন এবং বস্তুনিষ্ঠ। ডা. ফেরদৌসকে হেয় করার চেষ্টার মধ্যে আমাদের অসহিষ্ণুতার, ভিন্নমতকে না মানার পুরনো অসুখটি আবার সামনে চলে এলো। কাউকে পছন্দ না হলেই তাকে জামায়াত, শিবির, বিএনপি, খুনির আত্মীয় ট্যাগ লাগানোর কৌশলটা পুরনো। ডা. ফেরদৌস সেই ট্যাগ খসাতে বারবার প্রমাণের চেষ্টা করছেন যে তিনি ছাত্রলীগ করেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। কিন্তু তিনি যদি তা নাও হতেন; ডা. ফেরদৌস যদি সত্যি ছাত্রদল বা বিএনপি করতেন, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হতেন বা খুনি মোশতাকের ভাতিজা হতেনও (যদি তিনি খুন না করেন বা খুনির আদর্শ ধারণ না করেন); তাতেও আমার তার দেশে ফেরার ব্যাপারে আপত্তি নেই। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা আছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে, সংগঠন করার অধিকার আছে।

 
 সম্প্রতিক সময়ে টক অফ দা টাউন হল ডক্টর ফেরদৌস খন্দকার।তাকে নিয়ে দেশের গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে পরিমাণ আলোচনা হচ্ছে সেটা আসলেই দেখার মত একটা বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী এই চিকিৎসক যখন সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং করোনাভাইরাস এর সাথে লড়াই করার পর যখন নিউইয়র্ক সিটি কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে তখন তিনি বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা দিতে আসার ঘোষণা দেন এরপর থেকেই মূলত শুরু হয় বিপত্তি তাকেনিয়ে গণমাধ্যমগুলো এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশ করতে থাকে এবং মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে থাকে এই চিকিৎসককে নিয়ে

News Page Below Ad