একটি ফুল যখন মৃত্যুর সাথে হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সাথে লড়ছে ,সেই ফুলকে জ্বালিয়ে দেয়া পুরুষটার মুক্তির জন্যে রাস্তায় নেমেছে ফুলের সহপাঠীরাই! তাদের যে বাধ্য করা হয়েছে এটা বোঝার ক্ষমতা অনেকেরই নেই ,বরং মেয়েটির জন্যে মানববন্ধনে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা কমই ছিল ,এই চিত্র কতোটা ভয়ংকর বুঝতে পারছি  কি? মানবতা এখন সংখ্যালঘু হয়ে গেছে ,বারবার হেরে যাচ্ছে আমাদের মেয়েরা। মায়েদের আর্তনাদ কারো কর্ণকুহরে এখন আর সেভাবে সাড়া দেয়না। 
নুসরাত সুস্পষ্ট করে অধ্যক্ষকে নাম বললেও সেই অধ্যক্ষদের পক্ষে যখন কেউ দাঁড়ায় তখন বোঝার বাকি থাকে না এই কাজ সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার ফসল। জানতে ইচ্ছে হয় পেছনের মদদদাতা আসলে কারা? সেখানকার প্রশাসন কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছিল? সেখানে কি সত্যিকার কোনো মানুষ ছিল না? নাকি সবাই অজানা জুজুর ভয়ে নিজেদের লুকাতে ব্যস্ত? কেউটেগুলো এতো দুঃসাহস পায় কি করে? মানবতা কি এখন ফেসবুকে? কোথায় যাচ্ছি আমরা? আমরা কি পিছনের দিকে যাচ্ছি? আমাদের মেয়েরা ধর্ষিতা হয় ,জীবন্ত পুড়ে কয়লা হয় – আর কতো দেখবো? একজন সিরাজ উদদৌলাকে বাঁচাতে কাদের এতো আগ্রহ? সভ্যতা,মানবিকতা কি দেশ থেকে উঠেই গেছে? এ লজ্জা কি পুরো জাতির নয়? আগুনে পুড়ে ঝলসে যাওয়া মেয়েটার আর্তনাদ কি আমাদের ঘুমন্ত চেতনায় আঘাত করেনা? নাকি সবাই কানে তুলো দিয়েছি? 
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও যে আগুনের পাখি নির্ভিক চিত্তে বলে, আমি সারা পৃথিবীর কাছে বলবো এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্যে’ কোনও দেশের কাছে সুবিচার চেয়েছিল? যে দেশে নারী নিগৃহ নিত্যকার ঘটনা! কার কাছে সুবিচার চেয়েছিল? ধর্মের লেবাস  নিয়ে যারা আমাদের জিম্মি করে রেখেছে তাদের কাছে? এ দেশের সুশীল সমাজ ,বুদ্ধিজীবী–কই কাউকে দেখিনি মেয়েটির পক্ষে একটা কথা বলতেও! মনুষ্যত্ববোধ ,মানবতাবোধ মনে হয় লজ্জায় দূরে কোথাও লজ্জায় নির্বাসনে গেছে। 
আগুনের পাখির আকুলতা ,আর্তনাদ কতটুকু নাড়া দিলো আমাদের বিবেকে ? বিবেক বলে কি সত্যিই আর আমাদের মাঝে কিছু অবশিষ্ট আছে ? থাকলে অন্যায়কারীর পক্ষে মিছিল বের হয় কি করে ? অন্যায়ের সঙ্গ যে দেয় সেও অন্যায়কারী --- এটা কি শুধুই পড়ার জন্যে পড়েছি ? আমরা একবারো কি ভাবছি নুসরাতের জায়গায় নিজের সন্তানকে ? একবার ভাবুন –দেখবেন দুর্ভেদ্য অংক মিলে যাবে ,আমি ,আপনি সেই যন্ত্রণার ভার আদৌ  নিতে পারবো কিনা ?
যারা ওয়াজে নারীর পোশাক নিয়ে পড়ে থাকেন – সেইসব হুজুরদের জিজ্ঞেস করতে চাই শালীনতায় মুড়েও কেনো আমাদের মেয়েটা পুড়ে গেলো? মুখে ফেনা তুলে ফেলেন পোশাকের কথা বলে –আজ নুসরাতের পাশে আপনারা কেনো নেই? আর কতো জিঘাংসার শিকার হবে আমাদের মেয়েরা? জ্বলজ্যান্ত ,সুস্থ্য মেয়েটা পুড়ে মরলো শুধুই প্রতিহিংসার শিকার হয়ে? সংখ্যাটা দিনে ,দিনে শুধুই বাড়ছে ,আরো বাড়বে হয়তো! শুধু বরখাস্ত করেই কি দায়িত্ব শেষ? 
যেকোনো পুরুষ ইচ্ছে করলেই একজন মেয়েকে কামনা করবে , প্রত্যাখ্যাত হলেই সে  মেরেই ফেলবে? এতোই তুচ্ছ আমাদের মেয়েরা? একজন অন্যায় করলে সেটা অন্যায়ই – এখানে তার পক্ষে দাঁড়ানো সবাই একই অপরাধী ।
একটি ফুলকে বাঁচাতে যারা একদিন হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল – সে দেশের অসংখ্য ফুল ,কুঁড়ি এখন প্রতিদিন খবরের সংবাদ হয় ! নুসরাত আমাদের ক্ষমা করিস না ,আমরা অক্ষম মা – চোখের সামনে আমাদের মেয়েরা লাঞ্চিতা হয় ,ধর্ষিতা হয় ,পুড়ে কয়লা হয় ,তারপর নরক যন্ত্রণা ভোগ করে মরে যায়  আর  আমরা অসহায়  মায়েরা  শুধুই কাঁদি।  মেয়ের মা হওয়া এদেশে অভিশাপরে ! দোয়া করি আর যেনো কারো মেয়ে না হয় – সবাইর ঘরে ছেলে হোক।  যে জাতি মেয়েদের সম্মান দিতে ,ভালবাসতে শিখেনি – তাদের মেয়ের দরকার নেই। দেশ হোক পুরুষময় ---- অভিশাপ একজন নুসরাতের মায়ের ।