রোজিনা ইসলাম, বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সব থেকে আলোচিত একটি নাম। যে নামটি এখন সারা দেশের টক অব দ্যা টাউনে পরিনীত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনলায়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার কারনে সারা দেশে শুরু হয়েছে তোলপাড়। আর এই কারনে রোজিনাকে দিতে হয়েছে বড় ধরনের খেসারত। সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বললেন দেশের আরেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. তুহিন মালিক। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-


সত্য উদঘাটনের প্রচেষ্টা কখনও চুরি নয়। সত্য ও তথ্য জানার অধিকার দেশের মানুষের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে, পুলিশের সোর্স এবং সাংবাদিকের সোর্স- এ দুটোই বিচারিক এখতিয়ার বহির্ভুত। পুলিশ, গোয়েন্দা কিংবা সাংবাদিকের সোর্সই তাদের তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রধান উৎস। যেটা স্বাভাবিকভাবেই গোপনেই সংগ্রহ করতে হয়। এটাই সত্য অনুসন্ধানের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পদ্ধতি। তাই অনুসন্ধানী সাংবাদিক যখন সরকারী প্রতিষ্ঠানে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অবরুদ্ধ, হয়রানী ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চুরির অভিযোগে জেলে যান। তখন ৬ ঘন্টা সরকারী কাষ্টাডিতে থাকা যোগাযোগবিহীন আটককৃতের কাছে চুরির আলামত উদ্ধারের কাহিনী, দেশে চলমান ’পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে মামলার’ কাহিনীর মতই শোনায়। কারন মামলা দেবার দীর্ঘ ৬ ঘন্টা ভিকটিম সরকারী কাষ্টাডিতেই ছিলেন। দীর্ঘ ৬ ঘন্টায় চুরির কাগজ, পকেটে ইয়াবা কিংবা মোবাইলে পর্ণ ঢুকিয়ে দিয়ে মানুষের চরিত্রহরনের ঘটনাগুলো তো দেশের মানুষের কাছে খুব একটা অপরিচিত নয়।

দেশে যখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হলো, তখন দলদাস সাংবাদিক নেতারা বলেছিলেন, ’সরকার আশ্বস্ত করেছে এটা সাংবাদিকদের উপর প্রয়োগ করা হবে না।’ অথচ বাস্তবে এটা সাংবাদিকদের উপরই বেশী প্রয়োগ করা হয়েছে। দলদাসরা কখনও প্রশ্ন তুলেনি, স্বাধীন রাষ্ট্রে কেন ঔপনিবেশিক যুগের সরকারী গোপনীয়তার আইন থাকবে? কেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সত্যের মুখ চেপে ধরবে? তারা চেয়েছিল মাহমুদুর রহমান, ব্যারিস্টার মঈনুল কিংবা আবুল আসাদরা এই ফাঁদে পড়ুক। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল ঔপনিবেশিক যুগের নিবর্তনমূলক আইন কেবলই রাজার ইচ্ছাতেই চলে। সেখানে দলদাস চাটুকাররা শুধুই গুণকীর্তনকারী পেটপুজারী। আর এদের বিপরীতে রোজিনা ইসলামরাই সত্যের অনুসন্ধানী নির্যাতিতা প্রকৃত গণমাধ্যম কর্মী। রোজিনার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো যেমন এদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। ঠিক তেমনি রোজিনার উপর রাষ্ট্রীয় জুলুম নির্যাতনও ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

রোজিনা ইসলামকে বর্তমানে রাখা হয়েছে কারাগারে। সেখানে তার নামে দেয়া হয়েছে মামলা। তবে তার এই মামলার পরবর্তি কার্যক্রম কি হবে তা জানা যায়নি এখনো। এ দিকে রোজিনার এই ঘটনায় ইতিমধ্যে নানা ধরনের প্রতিবাদ শুরু করে দিয়েছে দেশের সাংবাদিক মহলেরা।

News Page Below Ad