বাংলাদেশে সাংবাদিকতা নিয়ে আবারো ঘটে গেছে আলোচিত একটি ঘটনা। গেল কয়েক দিন আগে দেশের জনপ্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর সিনিয়র এক সাংবাদিক যার নাম রোজিনা ইসলাম তাকে করা হয়েছে হেনস্থা। আর এ নিয়ে এখন উত্তাল সারা দেশ। বিশেষ করে তাকে আটকে রেখে হেনস্থা করা নিয়ে বেধেছে যত বিপত্তি। এবার এ নিয়ে মুখ খুললেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক জনাব আসিফ নজরুল। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-


রোজিনা ছিঁচকে চোর না
প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ছিঁচকে চোর না। সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত ও পুরস্কৃত একজন সাংবাদিক। তার প্রতিবেদন থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়সহ সরকারের বিভিন্ন অফিসের দায়িত্বহীনতা, দূনীতি ও অনিয়ম সম্পকে জেনেছি আমরা (নীচের ছবিগুলো তার কিছু প্রমান)। তার সাথে ছিঁচকে চোরের মতো ব্যবহার কিভাবে করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়?
রোজিনা বিনা অনুমতিতে সরকারী কোন নথির ছবি তুললে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যেত। কিন্ত ‍তাকে পাচ-ছয়ঘন্টা আটকে রাখার কোন অধিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নেই। আমার বিবেচনায়, এটি বরং অপরাধমূলক আটক সমতুল্য।
আর তারা রোজিনার মোবাইল আটকে রাখল কোন যুক্তিতে? সরকারী নথির ছবি তোলার অভিযোগ আনলে তা বিশ্বাসযোগ্য কিনা এ প্রশ্নও আসবে এখন। রোজিনার প্রতিবেদনে যাদের স্বার্থহানি হয়েছে তারা তো ইচ্ছেমতো ছবি তুলে এসব অভিযোগ দিতে পারে- এ সন্দেহেরও অবকাশ এখন থাকবে।
এখন আবার মানবজমিনে পড়লাম- তার দেহ তল্লাশী করে নাকি সরকারী নথি উদ্ধার করা হয়েছে। তল্লাশী কে করেছে? স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের লোকেরা? এটা করার তো কোন অধিকার নেই তাদের। আর যদি থানায় দেহ তল্লাশী করা হয় তাহলে আমাদের কি বিশ্বাস করতে হবে যে, ছয় ঘন্টা আটক থাকা অবস্থায় সে সরকারী নথি বয়ে বেড়াচ্ছিল!
(বাই দ্যা ওয়ে, কিসের নথি-র ছবি তুললে বা কোন নথি নিলে এমন ক্ষিপ্ত হতে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়? স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় তো প্রতিরক্ষা বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় না? কেন এতো অস্বস্তি তাদের?)

এ দিকে গতকাল তাকে শাগাবাগ থাকানয় নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানে ভিড় জমায় অন্যান্য সাংবাদিকরা। তারা সকলেই রোজিনার মুক্তি চান। তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত পরবর্তি কোন ধরনের কথা শোনা যায়নি পুলিশের কাছ থেকে।

News Page Below Ad