বিশ্বে প্রতিনিয়ত যাত্রী পরিবহনের জন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে উড়ে যাচ্ছে বিমান এবং কম সময়ে যাত্রীদেরকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে অন্যান্য যে স্থল যান কিংবা নৌযান রয়েছে সেগুলো থেকে আকাশপথে যাওয়াটা সব থেকে নিরাপদ এবং দ্রুতগামী কিন্তু আকাশ পথে দুর্ঘটনা হয় না এমনটা নয় আকাশ পথে দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে যাত্রীদের বাঁচার কোন উপায় থাকে না এবং বিশ্বজুড়ে এই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে থাকে প্রায় সময় তবে সব ক্ষেত্রে যান্ত্রিক জন্য এমনটি ঘটে না কিংবা মিস ল্যান্ডিংয়ের জন্য ঘটে না অনেক ক্ষেত্রে পাইলটরা দায়ী থাকে এর পিছনে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা এই সকল কর্মকান্ড ঘটিয়ে থাকেন
জার্মানির জার্মানউইংসের এ-৩২০ এয়ারবাসটি এ বছর ২৪ মার্চ স্পেনের উপকূলীয় শহর বার্সেলোনা থেকে জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে যাওয়ার পথে আল্পস পর্বতমালার ফরাসি অংশের একটি দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। জার্মানউইংসের বিমানটি বিধ্বস্তের ঘটনায় ছয়জন ক্রুসহ ১৫০ আরোহীর সবাই নিহত হন। আরোহীদের মধ্যে ৬৭ জন জার্মান এবং ৪৫ জনের মতো স্প্যানিশ ছিলেন। ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত এ বিমানটির কো-পাইলট আন্দ্রিয়াস লুবিৎস ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ধ্বংস করেছেন বলে দাবি করেছেন ব্রাইস রবিন নামের এক ফরাসি তদন্ত কর্মকর্তা। গত ২৬ মার্চ বিমানটির ফ্লাইট রেকর্ডারের শেষ ৩০ মিনিটের ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করে তিনি এ তথ্য জানান। বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে উদ্ধারকৃত ব্ল্যাকবক্সের তথ্য তুলে ধরে ওই ফরাসি কর্মকর্তা জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ১০ মিনিট আগে বিমানটির পাইলট ককপিট থেকে বেরিয়ে যান, সম্ভবত টয়লেটে যাওয়ার জন্য। এ সময় ২৮ বছরের কো-পাইলট আন্দ্রিয়াস লুবিৎস ককপিটে ছিলেন একা এবং ককপিটের দরজা বন্ধ ছিল। পাইলট বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি ইচ্ছা করেই বিমানটি নিচের দিকে নামাতে থাকেন। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাইলট টয়লেট থেকে ফিরে এসে ককপিটের দরজায় অনেকবার আঘাত করলেও কো-পাইলট দরজা খোলেননি। তিনি আরও জানান, ফ্লাইট রেকর্ডারে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ায় আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কো-পাইলটের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত শোনা গেছে। এদিকে জার্মান পত্রিকা বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুবিৎসের সাবেক বান্ধবী মারিয়া ডব্লিউ বলেন, ’লুবিৎস গত বছর (সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর) প্রায় বলতেন একদিন তিনি কিছু করে দেখাবেন। এর মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে এবং তারপর সবাই আমার নাম জানবে ও আমাকে মনে রাখবে।’
১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর ২০৭ জন যাত্রী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর থেকে মিসরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ইজিপ্টএয়ার ফ্লাইট ৯৯০ বোয়িং-৭৬৭। বিমানটি উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ পর্যটক মারা যান। এ ঘটনার পর মিসরীয় সরকার মিলিটারি অফিসার নিহতের খবর প্রকাশ না করার জন্য সেন্সর আরোপ করে। যাই হোক ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন অনুভব করে মিসরীয় সরকার। এ উদ্দেশ্যে দুর্ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সীমারেখায় হওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশনের অনুমতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইজিপ্টশিয়ান সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (ইসিএএ)। কিন্তু সংস্থাটির কিছু সীমাবদ্ধতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) কাছে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর এনটিএসবি তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, ঘটনা যতটা না দুর্ঘটনা তার থেকে বেশি ইচ্ছাকৃত। মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নিজেরা তদন্ত শুরু করে। অন্যদিকে এনটিএসবি কর্তৃপক্ষও তাদের তদন্ত অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে এনটিএসবি জানায়, দ্য রিলিফ ফার্স্ট অফিসার জামিল আল বয়াতি ইচ্ছাকৃতভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটান। কিন্তু ইসিএএ তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে- ইচ্ছাকৃত নয়, বিমান উড্ডয়নের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ব্ল্যাক বক্সে পাওয়া তথ্য অধিকতর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিমান উড্ডয়ের ২০ মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত হয়। বিমানের পাইলট ইচ্ছা করেই বিমানটিকে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বংস করেন। এমনকি বিধ্বস্ত করার আগে তিনি একটি ঘোষণাও দেন। সেটা ছিল ঠিক এ রকম, আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। আমি আমার বিশ্বাস স্রষ্টার ওপর সোপর্দ করলাম।
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস ৩৭০-এর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আজও পরিষ্কার হয়নি। অনেকেই দাবি করছেন, এ দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটের কোনো গাফিলতি থাকতে পারে। ২০১৪ সালের ৮ মার্চ মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস পরিচালিত বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানটি কয়ালালামপুর থেকে উড্ডয়নের ঘণ্টাখানেক বাদে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বিমানটিতে মোট ২৩৯ জন আরোহী ছিলেন। এখন পর্যন্ত বিমানটির হদিস করা যায়নি বা কোথাও কোনো ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়নি। ১৫ মার্চ মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক একটি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন এবং তিনি স্যাটেলাইট এবং রাডার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলেন, বিমানটি কেউ ভেবেচিন্তে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিমানটি দিক পরিবর্তন করে মালয়েশিয়ার ওপর দিয়েই ভারতের দিকে অগ্রসরের চেষ্টা করে। বিমানের ভিতরে অবস্থানরত যে কেউ এই কান্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর সম্ভবত আরও সাত ঘণ্টা আকাশে উড়েছিল। পরদিন মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ঘোষণা দেয় সাবাঙ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রাডার স্ক্রিন থেকে বিমানটি উধাও হওয়ার আগে এর কোনো কর্মী বা বিমানে অবস্থানরত কোনো যাত্রীর কাছ থেকেই কোনো ধরনের বিপদ সংকেত, খারাপ আবহাওয়া অথবা যান্ত্রিক ত্রুটির খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ভিতরে কোনো একজন বিমানটির দিক পরিবর্তন করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমে যাওয়া মানে বিমানটি কোনো অভিজ্ঞ পাইলটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি বেশ কয়েকবার তার উচ্চতাও পরিবর্তন করে। এসব থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, বিমানটির ভিতরে থাকা একজন দক্ষ পাইলট বিমানটিকে বিধ্বস্ত করে থাকতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে অনেক সময় দেখা যায় বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং সেখানে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে আবার কেউ কেউ আহত হয়েছে তবে সব ক্ষেত্রে যে বিমান দুর্ঘটনা গুলো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্যান্য কারণে ঘটে তা নয় শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য যে অনেক ক্ষেত্রে পাইলট রাই ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিমানগুলো বিধ্বস্ত করেন যার প্রমাণ ইতিপুর্বে অনেক রয়েছে। নিজেদের ইচ্ছাকৃত ভাবে ধ্বংস করা এই সকল বিমানগুলো থেকে সাধারণ মানুষ ও রক্ষা পায় না বরং তারাও চলে যায় না ফেরার দেশে

News Page Below Ad

পাইলটরা ইচ্ছা করেই বিধ্বস্ত করেছে অনেক বিমান, মিলেছে প্রমান
Logo
Print

আন্তজার্তিক Hits: 281

 

 
বিশ্বে প্রতিনিয়ত যাত্রী পরিবহনের জন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে উড়ে যাচ্ছে বিমান এবং কম সময়ে যাত্রীদেরকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে অন্যান্য যে স্থল যান কিংবা নৌযান রয়েছে সেগুলো থেকে আকাশপথে যাওয়াটা সব থেকে নিরাপদ এবং দ্রুতগামী কিন্তু আকাশ পথে দুর্ঘটনা হয় না এমনটা নয় আকাশ পথে দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে যাত্রীদের বাঁচার কোন উপায় থাকে না এবং বিশ্বজুড়ে এই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে থাকে প্রায় সময় তবে সব ক্ষেত্রে যান্ত্রিক জন্য এমনটি ঘটে না কিংবা মিস ল্যান্ডিংয়ের জন্য ঘটে না অনেক ক্ষেত্রে পাইলটরা দায়ী থাকে এর পিছনে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা এই সকল কর্মকান্ড ঘটিয়ে থাকেন
জার্মানির জার্মানউইংসের এ-৩২০ এয়ারবাসটি এ বছর ২৪ মার্চ স্পেনের উপকূলীয় শহর বার্সেলোনা থেকে জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে যাওয়ার পথে আল্পস পর্বতমালার ফরাসি অংশের একটি দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। জার্মানউইংসের বিমানটি বিধ্বস্তের ঘটনায় ছয়জন ক্রুসহ ১৫০ আরোহীর সবাই নিহত হন। আরোহীদের মধ্যে ৬৭ জন জার্মান এবং ৪৫ জনের মতো স্প্যানিশ ছিলেন। ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত এ বিমানটির কো-পাইলট আন্দ্রিয়াস লুবিৎস ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ধ্বংস করেছেন বলে দাবি করেছেন ব্রাইস রবিন নামের এক ফরাসি তদন্ত কর্মকর্তা। গত ২৬ মার্চ বিমানটির ফ্লাইট রেকর্ডারের শেষ ৩০ মিনিটের ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করে তিনি এ তথ্য জানান। বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে উদ্ধারকৃত ব্ল্যাকবক্সের তথ্য তুলে ধরে ওই ফরাসি কর্মকর্তা জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ১০ মিনিট আগে বিমানটির পাইলট ককপিট থেকে বেরিয়ে যান, সম্ভবত টয়লেটে যাওয়ার জন্য। এ সময় ২৮ বছরের কো-পাইলট আন্দ্রিয়াস লুবিৎস ককপিটে ছিলেন একা এবং ককপিটের দরজা বন্ধ ছিল। পাইলট বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি ইচ্ছা করেই বিমানটি নিচের দিকে নামাতে থাকেন। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাইলট টয়লেট থেকে ফিরে এসে ককপিটের দরজায় অনেকবার আঘাত করলেও কো-পাইলট দরজা খোলেননি। তিনি আরও জানান, ফ্লাইট রেকর্ডারে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ায় আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কো-পাইলটের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত শোনা গেছে। এদিকে জার্মান পত্রিকা বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুবিৎসের সাবেক বান্ধবী মারিয়া ডব্লিউ বলেন, ’লুবিৎস গত বছর (সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর) প্রায় বলতেন একদিন তিনি কিছু করে দেখাবেন। এর মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে এবং তারপর সবাই আমার নাম জানবে ও আমাকে মনে রাখবে।’
১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর ২০৭ জন যাত্রী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর থেকে মিসরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ইজিপ্টএয়ার ফ্লাইট ৯৯০ বোয়িং-৭৬৭। বিমানটি উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ পর্যটক মারা যান। এ ঘটনার পর মিসরীয় সরকার মিলিটারি অফিসার নিহতের খবর প্রকাশ না করার জন্য সেন্সর আরোপ করে। যাই হোক ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন অনুভব করে মিসরীয় সরকার। এ উদ্দেশ্যে দুর্ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সীমারেখায় হওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশনের অনুমতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইজিপ্টশিয়ান সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (ইসিএএ)। কিন্তু সংস্থাটির কিছু সীমাবদ্ধতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) কাছে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর এনটিএসবি তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, ঘটনা যতটা না দুর্ঘটনা তার থেকে বেশি ইচ্ছাকৃত। মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নিজেরা তদন্ত শুরু করে। অন্যদিকে এনটিএসবি কর্তৃপক্ষও তাদের তদন্ত অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে এনটিএসবি জানায়, দ্য রিলিফ ফার্স্ট অফিসার জামিল আল বয়াতি ইচ্ছাকৃতভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটান। কিন্তু ইসিএএ তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে- ইচ্ছাকৃত নয়, বিমান উড্ডয়নের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ব্ল্যাক বক্সে পাওয়া তথ্য অধিকতর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিমান উড্ডয়ের ২০ মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত হয়। বিমানের পাইলট ইচ্ছা করেই বিমানটিকে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বংস করেন। এমনকি বিধ্বস্ত করার আগে তিনি একটি ঘোষণাও দেন। সেটা ছিল ঠিক এ রকম, আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। আমি আমার বিশ্বাস স্রষ্টার ওপর সোপর্দ করলাম।
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস ৩৭০-এর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আজও পরিষ্কার হয়নি। অনেকেই দাবি করছেন, এ দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটের কোনো গাফিলতি থাকতে পারে। ২০১৪ সালের ৮ মার্চ মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস পরিচালিত বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানটি কয়ালালামপুর থেকে উড্ডয়নের ঘণ্টাখানেক বাদে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বিমানটিতে মোট ২৩৯ জন আরোহী ছিলেন। এখন পর্যন্ত বিমানটির হদিস করা যায়নি বা কোথাও কোনো ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়নি। ১৫ মার্চ মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক একটি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন এবং তিনি স্যাটেলাইট এবং রাডার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলেন, বিমানটি কেউ ভেবেচিন্তে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিমানটি দিক পরিবর্তন করে মালয়েশিয়ার ওপর দিয়েই ভারতের দিকে অগ্রসরের চেষ্টা করে। বিমানের ভিতরে অবস্থানরত যে কেউ এই কান্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর সম্ভবত আরও সাত ঘণ্টা আকাশে উড়েছিল। পরদিন মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ঘোষণা দেয় সাবাঙ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রাডার স্ক্রিন থেকে বিমানটি উধাও হওয়ার আগে এর কোনো কর্মী বা বিমানে অবস্থানরত কোনো যাত্রীর কাছ থেকেই কোনো ধরনের বিপদ সংকেত, খারাপ আবহাওয়া অথবা যান্ত্রিক ত্রুটির খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ভিতরে কোনো একজন বিমানটির দিক পরিবর্তন করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমে যাওয়া মানে বিমানটি কোনো অভিজ্ঞ পাইলটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি বেশ কয়েকবার তার উচ্চতাও পরিবর্তন করে। এসব থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, বিমানটির ভিতরে থাকা একজন দক্ষ পাইলট বিমানটিকে বিধ্বস্ত করে থাকতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে অনেক সময় দেখা যায় বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং সেখানে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে আবার কেউ কেউ আহত হয়েছে তবে সব ক্ষেত্রে যে বিমান দুর্ঘটনা গুলো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্যান্য কারণে ঘটে তা নয় শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য যে অনেক ক্ষেত্রে পাইলট রাই ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিমানগুলো বিধ্বস্ত করেন যার প্রমাণ ইতিপুর্বে অনেক রয়েছে। নিজেদের ইচ্ছাকৃত ভাবে ধ্বংস করা এই সকল বিমানগুলো থেকে সাধারণ মানুষ ও রক্ষা পায় না বরং তারাও চলে যায় না ফেরার দেশে
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.