বলা হয়, জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে এই তিনটি জিনিস নাকি সৃষ্টিকর্তার হাতে নিয়ন্ত্রিত , কোনভাবেই মানুষ এই তিনটি ঘটনাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, সেই তিনটির মধ্যে দুইটি ঘটনা খুব কাছাকাছি সময়ে ঘটে গেল হারলে ও রিয়ান দম্পত্তির জীবনে।
স্কুলজীবন থেকে চলা দীর্ঘ প্রেমের সফল পরিসমাপ্তি বিয়ের মাধ্যমে ঘটলেও , তার কিছুক্ষণের মধ্যে জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে যায়।


সেই স্কুলজীবন থেকে প্রেম হারলে ও রিয়ান মর্গানের। বড় হওয়ার পরেও ছোটবেলার সেই প্রেম ভেঙে যায়নি। বরং আরও পূর্ণতা পেয়েছিল। দু’জনেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন থেকেই বিয়ের পিড়িতে বসেন। কিন্তু তার সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বিয়ের পর তারা দাম্পত্য জীবন কাটালেন মাত্র কয়েক মিনিট। এরপরেই শেষ হয়ে গেল সব।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা রিয়ানের সঙ্গে হারলের বিয়ে ছিল শুক্রবার। কোর্টরুমে বিয়ের সময় বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল এই দম্পতি। তখন কে জানত যে, তাদের এই উচ্ছ্বাসের স্থায়ীত্ব মাত্র অল্প কিছুক্ষণ?
বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন রিয়ান। কিন্তু আচমকাই হাইওয়েতে ওঠার কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে নবদম্পতির গাড়িটি। সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান বর-বধূ। জীবন শুরু হওয়ার আগেই নিভে গেল। বিয়ের পোশাকেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সদ্য বিবাহিত রিয়ান ও হারলে।
রিয়ানের মা ও বোন ছিলেন নবদম্পতির গাড়ির ঠিক পেছনে। নিজের ছেলে ও বৌয়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখে বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন রিয়ানের মা। তিনি বলেন, আমার চোখের সামনে বাচ্চা দু’টো মারা গেল। আমি বসে বসে দেখলাম। সারা জীবনে আমি এ দৃশ্য ভুলতে পারব না। আমি ওকে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করছিলাম। এখনও আমার হাতে ওর রক্ত লেগে রয়েছে। হারলে ও রিয়ানের আত্মীয়রাও তাদের মৃত্যুর খবরে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।