মায়ের নামে করা ক্যান্সার হাসপাতালে এক রাতেই ২০ কোটি টাকা দান করেছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শনিবার রাতে একটি টুইট করেছেন।
টুইট বার্তায় ইমরান খান বলেন, আমি সব দাতাদের ধন্যবাদ দিচ্ছি যে, আজকের ইফতার মাহফিলে যে অনুদান এসেছে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
’আজকের রাতেই ২০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে শওকত খানম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। এখানে সব যাকাতের দান কেবল ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হবে।’
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান ও তার ক্যান্সার হাসপাতাল সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাকিস্তানের ডেইলি নিউজ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মনির আহমেদ বলেছেন, তিনি ক্রিকেটার হিসাবে সফল ছিলেন। যখন ক্যান্সার হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিলেন, সবাই বলেছিল হাসপাতাল সম্ভব না। কিন্তু সেটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাজনীতিতে আসার পর তাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। সেসব বাঁধা উপেক্ষা করে তিনি হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
কেন এই হাসপাতাল?
দুরারোগ্য ক্যান্সারে নিজের মাকে তিলে তিলে মৃত্যু পদযাত্রী হতে দেখেছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ইমরান খান।
মায়ের স্মৃতিতে তিনি তৈরি করেন দেশের প্রথম ক্যান্সার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। নাম শওকত খানম মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতাল। এসব স্বপ্নপূরণের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ইমরানের চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাস।
ইমরান খান যখন সিদ্ধান্ত নেন তিনি পাকিস্তানে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল তৈরি করবেন তখন অনেকেই বিশ্বাস করেনি। কিন্তু তিনি দমে যাননি। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের লাহোরে প্রতিষ্ঠা করেন ’শওকত খানম মেমোরিয়াল ক্যান্সার হসপিটাল এবং গবেষণা কেন্দ্র ।
১৯৯৪ সালে লাহোরে গড়ে ওঠা এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৬০০। এই হাসপাতালটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে ৭৫ শতাংশ ক্যান্সার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
একইভাবে পেশোয়ারেও নির্মাণ করেন আরেকটি ক্যান্সার হাসপাতাল। এসব হাসপাতালের প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসাই হয় অসহায় দরিদ্রদের যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।