চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন দেড় বছর আগে, কিন্তু অফিসের সেই চেয়ারটির দীর্ঘ দিনের মায়া ছাড়তে পারেননি আজও। জেলার ইসলামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত মহরার সুরুজ্জামান লোভনীয় সে চেয়ারটি আঁকড়ে ধরে বসে আছেন।
পদে না থাকলেও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও রেকর্ডপত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তিনিই পালন করছেন। জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুরুজ্জামান বিগত ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে মহরার পদে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যোগদান করেন। ৩৬ বছর চাকরি করার পর তিনি গত ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর অবসরে যান । ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তার পিআরএল শেষ হয়।
অভিযোগ ওঠেছে, দেড় বছর আগে অবসর নেওয়া সেই মহরার দুর্দান্ত দাপটে এখন সেই চেয়ার-টেবিলে বসে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রদর্শিত ফির বাইরে গোপন ফির কাঁচা টাকার স্বাদ নিতেই তিনি অবসরে গিয়ে অবসর থাকছেন না। তিনি অবসরে থাকা সত্ত্বেও চাকরি বিধিমালা বহির্ভূত দলিল চেক দিচ্ছেন ও ফির সাথে দলিল প্রতি ৮০০ টাকা করে ঘুষ গুণে নিচ্ছেন। অথচ ওই অফিসে আরও দুইজন মহরার চাকরি করছেন।
এ ব্যাপারে সুরুজ্জামান, অবসরে গিয়েও অফিসে কর্মরত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি অবসরে চলে গিয়েছিলাম, তারপরে স্যার আমাকে ডেকে এনেছে। তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগুলো অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি শুধু প্রদর্শিত ফি গ্রহণ করে থাকেন।
দলিল লেখক সমিতির একজন নেতা বলেন, আমাদের অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার চাকরিতে নতুন, বাকি সরকারি কর্মচারীরাও কাজ বুঝে না। ইসলামপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি চালাচ্ছে মূলত মহরার সুরুজ্জামান ও পিয়ন আজিজ। জামালপুরের জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল আজিজ খোলা কাগজকে বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কোন কর্মচারী দিয়ে অফিসের দায়িত্ব পালন না করানোর জন্য আমি বেশ কমাস আগেই প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছি। সরকারি নীতিমালা ও অফিসিয়াল নির্দেশ অমান্য করে কোনো অফিসে এখনো অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে তাহলে ওই অফিস প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।