গেল ৪ মাস পর্যন্ত, রফতানি, অনুদান বা মঞ্জুরি উপহার এবং কোভাক্সের অধীনে ৯৫ টি দেশে কোভিড টিকা (ভ্যাকসিন) এর ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে ভারতের পক্ষ হতে।
সেখান হতে বিভিন্ন দেশে পাঠানো মোট ভ্যাকসিনের মধ্যে বাংলাদেশ ১ কোটি ৩ লক্ষ ডোজ পেয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক হতে প্রকাশিত হওয়া কোভিড ভ্যাকসিনের আপডেট হওয়া হিসাব হতে এই ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেই হিসাব অনুসারে, ভারতের ভ্যাকসিনগুলির ৬ ভাগের ১ ভাগ অংশ পেল ভারতের সুসম্পর্ক বজায় থাকা এবং বন্ধুপ্রতীম দেশ বাংলাদেশ। গেল ২৯ শে মার্চ এর পর হতে ভারত কোভিড ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে রফতানি করেনি।

কূ’টনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ভারতে কভিড পরিস্থিতি বেশ জ’টিল হয়ে উঠছে। নিজেরাই ভ্যাকসিন সংকটে আছে। আবার ভ্যাকসিন উত্পাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল আসাও বন্ধ আছে। ভারতের অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন (কোভিশিল্ড) উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পুনাওয়ালা কাঁচামাল আমদানিতে নি’ষেধা’জ্ঞা প্র’ত্যা’হার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিন্তু এতে কোনো সুরাহা হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জানুয়ারি ভারত বিদেশে কভিড ভ্যাকসিন পাঠানো শুরু করে। ভারত তিন দ’ফায় বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দিয়েছে। এটি বিদেশে ভারতের উপহার হিসেবে পাঠানো ভ্যাকসিনের (এক কোটি ছয় লাখ ১৫ হাজার) প্রায় এক তৃতীয়াংশ। এর বাইরে চুক্তির আওতায় বাণিজ্যিক রপ্তানির অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশে দুই দ’ফায় ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। এটিও কোনো দেশে বাণিজ্যিকভাবে ভারতের সর্বোচ্চ রপ্তানি। ভারত মোট তিন কোটি ৫৭ লাখ ৯২ ডোজ ভ্যাকসিন রপ্তানি করেছে।

মরক্কোও ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনের বাণিজ্যিক চালান পেয়েছে ভারত থেকে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ৫০ লাখ, ব্রাজিল ৪০ লাখ, নেপাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ লাখ ডোজ করে ভ্যাকসিনের বাণিজ্যিক চালান পেয়েছে। ভারত কোভ্যাক্সের আওতায় ৪৯টি দেশে এক কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার আটশ’ ডোজ কভিড ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে।

ভারতে বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা তী’ব্রতা পেয়েছে, যার কারনে গতকাল এক দিনে প্রয়াত হয়েছেন ২ হাজার ৭০০ জন এবং দৈনিক সংক্রমনের পরিমান অনেক ভ’য়া/ব’হ। যে পরিমান সংক্রমিত হচ্ছে প্রতিদিন সেই হারে সেখানে প্রয়াতের সংখ্যাও বাড়বে এটা অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে। তবে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভারত বাইরের দেশে ভ্যাকসিন দিবে কিনা সে বিষয়ে পরিষ্কার নয়।

News Page Below Ad