এবার দাফনের জন্য আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার পরপরই নড়ে উঠেছে শিশু এ ঘটনায় তাজ্জব বনে গেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসকরাও। মূলত দাফনের জন্য ওই শিশুকে যখন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তখন কবরস্থানের লোকজন দাফন বাবদ এক হাজার ৪০০ টাকা দাবি করেছিল তবে ওই সময় শিশুর পিতার পকেট এ পর্যাপ্ত টাকা ছিল না তখন তিনি তার সেই শিশুকে নিয়ে বসিলা কবরস্থানে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই এই কাণ্ড ঘটে


’দাফনের জন্য আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যাই প্রথমে। কবরস্থানের লোকজন দাফন বাবদ এক হাজার ৪শ’ টাকা দাবি করে। পর্যাপ্ত টাকা ছিল না পকেটে। তাই মরিয়মকে নিয়ে যাই বসিলা কবরস্থানে। দাফন করার আগে আমার মনে হলো হাশরের ময়দানে মেয়েকে চিনবো কীভাবে? মনে মনে ভাবি একটা নাম রেখে দিই। প্রথমেই মাথায় আসে মরিয়ম নামটা। আর নাম রাখার এক মিনিটের মধ্যেই প্যাকেটের ভেতর নড়ে ওঠে সে। প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। কান্নার শব্দ পেতেই খুলে দেখি সে জীবিত!’ বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটাই জানালেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ’মৃতঘোষিত’ শিশু মরিয়মের বাবা ইয়াসিন মোল্লা। নিজেকে ভাগ্যবান ভাবছেন এই ভেবে যে, আজিমপুরে যাওয়ার পর তার পকেটে এক হাজার চারশ’ টাকা ছিল না।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে জন্ম হয় নবজাতকটির। জন্মের পরই ডাক্তাররা তাকে ’মৃত’ ঘোষণা করেন। এরপর কেটে যায় আরও খানিকটা সময়। শুরু হয় দাফনের প্রস্তুতি। আর দাফনের ঠিক আগ-মুহূর্তেই চিৎকার করে মরিয়ম জানিয়ে দেয়, ’আমি বেঁচে আছি!’
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির সর্বশেষ অবস্থা এখনও অপরিবর্তিত। বাবা-মা দোয়া চেয়েছেন সবার কাছে।
মরিয়মের বাবা ইয়াসিন মোল্লা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ’একটু আগেও খোঁজ নিয়েছি। মরিয়ম আগের মতোই আছে। নবজাতক ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) তার চিকিৎসা চলছে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন আমার সন্তান বেঁচে থাকে, সুস্থ থাকে।’
মরিয়মের বিষয়ে ঢামেকের নবজাতক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনীষা ব্যানার্জি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ’সাধারণত ২৮ সপ্তাহের দিকে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু শিশুটি ২৫ সপ্তাহে জন্ম নিয়েছে। তাই একটু ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে সময় না গেলে এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা যাবে না।’
এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তিন দিন আগে মরিয়মের মা শাহিনুরকে ভর্তি করান স্বামী ইয়াসিন মোল্লা। ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া শাহিনুর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরের দিকে স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। জন্মের পরপরই ওই নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
মৃত্যুর সনদে চিকিৎসকরা জানান, নবজাতকটি মৃত অবস্থাতেই জন্ম নিয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, ’নবজাতকটি জীবিত আছে। তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে। সুস্থ আছে।’ তিনি আরও বলেন, ’আমরা এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করবো। বের করার চেষ্টা করবো কেন এমনটি হয়েছে।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ’এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটের প্রধান মনীষা ব্যানার্জিকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
পরিবারটির বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালঙ্গা গ্রামে। স্ত্রী শাহিনুর গৃহিণী, স্বামী ইয়াসিন মোল্লা বিআরটিসির বাসচালক।
আরও পড়ুন:
ঢামেকে মৃতঘোষিত নবজাতক দাফন করতে গিয়ে জীবিত!



মৃত ব্যক্তি দাফনের সময় জীবিত হওয়ার ঘটনা ইতিমধ্যে অনেকেই শুনেছে তবে তেমনই একটি ঘটনা আবারো সামনে এসেছে এবং এবারের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেয়া নবজাতকের যেন অলৌকিক ঘটনা। জন্ম নেয়ার পরপরই ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন তবে এরপর আরো খানিকটা সময় কেটে যায় এবার দাফনের প্রস্তুতি সময় ঠিক আগ মুহূর্তে চিতকার করে মেয়ে শিশুটি এবং জানিয়ে দেয় যে সে বেঁচে আছে

News Page Below Ad