শ্বশুরের জমি লিখে দেয়া ও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগে বরগুনায় আবদুর রহমান খোকন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পরে এ ঘটনায় মামলা হলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। খোকন বরগুনা সদর উপজেলার বুরিরচর ইউনিয়নের রায়েরতবক গ্রামের মরহুম আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।
খোকন ছাড়াও এ মামলায় খোকনের বোন রাহিমা বেগম এবং মা সেতারা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন খোকনের শাশুড়ি রোকেয়া বেগম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১৫ মে এ মামলার বাদী রোকেয়া বেগমের মেয়ে মানসুরা আক্তারের সঙ্গে খোকনের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ১৩ বছরের জীবনে তাদের সাত বছরে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে আবদুর রহমান খোকন। বিয়ের সময় পাওয়া তার স্ত্রীর ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার সব বিক্রি করে দেয় খোকন।
এরপর স্বজনদের কাউন্সিলিং ও ব্যবসায় মনোনিবেশের মাধ্যমে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য খোকনকে ব্যবসার জন্য ১৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল কিনে দেয় শ্বশুরবাড়ির স্বজনরা। এছাড়া খোকনের শ্বশুরবাড়ি সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় শ্বশুরের জমিতে খোকনের বসবাসের জন্য ছয় শতাংশ জমিতে ঘর তুলে দেয় শ্বশুর-শাশুড়ি। সেই ঘরে মা ও বোনকে নিয়ে বসবাস করছে খোকন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, খোকন একাধিক পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। আর যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা ও জমি খোকনের নামে লিখে না দিলে মানসুরাকে ডিভোর্স দেবে বলেও জানিয়ে দেয় খোকন। গত চার বছর ধরে এ নিয়ে বিভিন্ন সময় স্ত্রী মানসুরা বেগমকে শারীরিক ও মানুসিক নির্যাতন করে খোকন। সর্বশেষ সোমবার সকালে বোন ও মায়ের সহযোগিতায় মানসুরাকে মারধর শুরু করলে মানসুরার স্বজনরা খোকনকে প্রতিহত করে মানসুরাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ওই দিন রাতেই মানসুরার মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে খোকন, তার বোন রাহিমা বেগম ও মা সেতারা বেগমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, মামলার পর এ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।