গেল মাসের ২৬ তারিখে রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় এক তরুণীর লাশ। আর সেই সাথে সারা দেশে এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা। এ দিকে তরুণী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর আলোচনায় ছিলেন তার বড় বোন নুসরাত জাহান। তবে রবিবার আদালতে হত্যা মামলা করে আলোচনায় আসেন তার একমাত্র ভাই আশিকুর রহমান সবুজ। যদিও দুই বোনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল বলে সবুজ নিজেই স্বীকার করেছেন।
রবিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে (সিএমএম) মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সবুজ হত্যা মামলার আবেদন করেন। এতে আসামি করা হয়েছে জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল হক চৌধুরী শারুনকে। মুনিয়ার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুনিয়া ও শারুনের কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। পরে হুইপপুত্র শারুনকে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে শারুনকে আসামি করে মামলাটি করেন সবুজ।

তবে আশিকুর রহমান সবুজের এই মামলার বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না তার বোন নুসরাত জাহান। গণমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেছেন, এই মামলার পেছনে তার ভাইয়ের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তার এই মন্তব্যের দ্বারাই অনুমান করা যায়, তাদের ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বোনদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না সেটা স্বীকার করে সবুজ বলেন, ’ওদের সঙ্গে আমার যোগাযোগটা একটু বিচ্ছিন্ন ছিল অন্য কারণে। এই যে এত কিছু হয়েছে এটা আমি জানতাম না। হঠাৎ এই ঘটনার পর আমি জানতে পারলাম। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং অনলাইনে দেখলাম এটা আমার জানাই ছিল না।’

মুনিয়ার পরিবার কুমিল্লা শহরের বাসিন্দা। তারা তিন ভাই-বোন। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মুনিয়া ছোট। মা-বাবা জীবিত নেই। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান ও মা সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা কাজী সেতারা বেগম।

বড় ভাই আশিকুর রহমান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি জানান, বড় ভাই হিসেবে নিজের প্রাপ্য সম্মান থেকে সব সময় বঞ্চিত। বোনেরা কখনোই তার কথা শোনেননি। ফলে ভাই হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনেও ব্যর্থ তিনি।

মুনিয়ার বিষয়ে সবুজ যতটা না জানেন, তার চাইতে বেশি জানে মুনিয়ার বোন ও বোন জামাই। কারণ মুনিয়া তাদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বলে জানান সবুজ। তিনি বলেন, ’এগুলো আমার বোন নুসরাত এবং বোনের জামাই মিজান ভালো বলতে পারবে। কারণ মুনিয়া ওদের তত্ত্বাবধানে ছিল।’

সবুজ নিজেকে সাদাসিধা মানুষ হিসেবে দাবি করেন। আর দুই বোন উচ্চাভিলাষী বলেও জানান। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর ভাই-বোনেরা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান বলে জানান সবুজ।

বোনেরা তার সঙ্গে কথা বলত না জানিয়ে সবুজ বলেন, ’ওরা ওদের মতো আছে। ওরা আমার অর্ধেক জায়গায় ঘর করে থাকে। সেখানে আসা যাওয়া করতো, কিন্তু আমার সঙ্গে কথা বলতো না। আর আমার সঙ্গে সাধারণত দেখা হতো না। আমি বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকতাম। ওরা ঢাকায় যে বাসায় থাকতো সেটাও আমি জানি না। আমি জানতে পারলাম নিউজের মাধ্যমে।’

২০১৯ সালে মুনিয়া রাজধানীর বনানী বান্ধবীদের সঙ্গে থাকতেন বলে জানান সবুজ। সে বাসায় গিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ভাই-বোনের।

সবুজ বলেন, ’বনানীর বাসায় যাওয়ার পর আমিও যোগাযোগ করিনি। ওরাও আর যোগাযোগ করেনি। যাদের তত্ত্বাবধানে ছিল তারা হয়তো অনেক কিছু জানে, আমি তো সিওর না।’

সবুজ জানান, বাবার মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তিনি নিতেন না। তা বোনেরাই উঠাতেন। তারাই ভোগ করতেন। মুনিয়া এক লাখ টাকার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন এ বিষয়টিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই জেনেছেন বলে জানান আশিকুর রহমান সবুজ।

এ দিকে এই ঘটনার নানা ধরনের সব নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে প্রতিদিনই। বিশেষ করে বসুন্ধরার এমডির নামটি জড়িয়ে যাবার পর থেকে এই ঘটনার আরো বেশি ডাল পালা ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়তই। জানা গেছে ওই ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

News Page Below Ad